ইরানের নিরাপদ প্যাসেজে বাংলাদেশের জ্বালানি জাহাজ: আনুষ্ঠানিক নথি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে
ইরানের নিরাপদ প্যাসেজে বাংলাদেশের জাহাজ: নথি সংগ্রহের চেষ্টা

ইরানের নিরাপদ প্যাসেজে বাংলাদেশের জ্বালানি জাহাজ: আনুষ্ঠানিক নথি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে

বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ চলাচলের বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির দেওয়া বক্তব্যের আনুষ্ঠানিক নথি সংগ্রহে কাজ করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিপিসি চেয়ারম্যানের বক্তব্য

বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানান, 'গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে আমরা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির বক্তব্য সম্পর্কে জেনেছি। এখন আমরা সেই বক্তব্যের আনুষ্ঠানিক ডকুমেন্ট সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি।' তিনি উল্লেখ করেন যে, এই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা

এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্ট করে বলেছিলেন যে, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়নি। তিনি জানান, অনেক দেশ ও জাহাজ মালিক নিরাপদে প্রণালি পার হওয়ার জন্য তেহরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আরাঘচি আরও উল্লেখ করেন, যেসব দেশকে ইরান বন্ধু মনে করে অথবা বিশেষ প্রয়োজনে অনুমতি দেয়, তাদের জন্য ইরানি সশস্ত্র বাহিনী নিরাপদ পাহারার ব্যবস্থা করছে। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান তাদের এই বিশেষ তালিকায় চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক, ভারত এবং বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাংলাদেশের জন্য গুরুত্ব

ইতিমধ্যে ভারতের দুটি জাহাজ এই সুবিধা নিয়ে প্রণালি পার হয়েছে এবং বাংলাদেশের সঙ্গেও এ বিষয়ে সমন্বয় করা হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের তেলবাহী জাহাজ চলাচলে ইরানের সবুজ সংকেত দেশের বিদ্যমান জ্বালানি সংকট মেটাতে ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জ্বালানি বিভাগ, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ এ পর্যন্ত চীন থেকে সবচেয়ে বেশি পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে আসছিল। ইরান সম্প্রতি চীনের জাহাজ চলাচলে কোনো বিঘ্ন না ঘটানোর ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে চীনের কোম্পানি ইউনিপ্যাক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড থেকে বাংলাদেশ নিয়মিত পরিশোধিত তেল আমদানির সুযোগ পাবে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করবে।

এই উন্নয়ন বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে।