জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু স্পষ্ট করে বলেছেন, বাংলাদেশে জ্বালানির সরবরাহে কোনো ধরনের ঘাটতি নেই। তবে পেট্রোল পাম্পে হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়াই মূল সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
মন্ত্রীর ব্যাখ্যা: চাহিদা বৃদ্ধিই মূল কারণ
মন্ত্রী বলেন, "আমি বারবার বলেছি, তেল সরবরাহে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। সমস্যাটা হলো আগে একটি পেট্রোল পাম্প দিনে এক ট্যাঙ্কার জ্বালানি বিক্রি করত। কিন্তু চলমান যুদ্ধের কারণে মানুষ এখন জ্বালানি মজুদ করছে। ফলে আগে পুরো দিনে যা বিক্রি হতো, এখন মাত্র দুই ঘণ্টায় বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। তখন পাম্পটি বন্ধ দেখায় এবং মানুষ বলে জ্বালানি ফুরিয়ে গেছে।"
সিরাজগঞ্জ সোলার পার্ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলোচনা
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু শুক্রবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের ৬৮ মেগাওয়াট সোলার পার্ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় এসব মন্তব্য করেন। তিনি আরও যোগ করেন যে জ্বালানি সরবরাহ অবিচ্ছিন্নভাবে চলমান রয়েছে এবং সারাদেশের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রধানরা পরিস্থিতি মনিটরিং করছেন।
হঠাৎ চাহিদা বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব
মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে হঠাৎ চাহিদা বৃদ্ধির ফলে দুর্নীতি ও কালোবাজারি সৃষ্টি হয়েছে, যা ইতিমধ্যে সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শনাক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, "এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে এবং অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
মন্ত্রী আরও জানান, সরকার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে:
- পেট্রোল পাম্পগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং
- জ্বালানি মজুদ ও বিতরণ প্রক্রিয়া উন্নত করা
- সোলার পার্কের মতো বিকল্প জ্বালানি উৎসের সম্প্রসারণ
তিনি আশ্বাস দেন যে সরকার জনগণের জ্বালানি চাহিদা পূরণে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং যেকোনো সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।



