জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির আহ্বান: ক্রেতাদের সংযত হওয়ার অনুরোধ
বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি জ্বালানি তেল ক্রয়ে ক্রেতাদের সংযত হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত জ্বালানি কিনে মজুত করা থেকে বিরত থাকার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) সংগঠনটি এই অনুরোধ প্রকাশ করে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্ত্রীর বক্তব্য: সরবরাহ স্বাভাবিক, কালোবাজারিরা সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করছে
অপরদিকে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দাবি করেছেন যে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে কিছু অসাধু কালোবাজারী গোষ্ঠী মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
জরুরি চাহিদা পূরণে তিন লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন
দেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা মেটাতে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি তিন লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এই ডিজেল আন্তর্জাতিক ক্রয়ের মাধ্যমে সরাসরি পদ্ধতিতে দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে কেনা হবে।
- এপি এনার্জি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড: এই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এক লাখ মেট্রিক টন ডিজেল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- সুপারস্টার ইন্টারন্যাশনাল (গ্রুপ) লিমিটেড: এখান থেকে আরও দুই লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা মোট চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।
চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন জাহাজ পৌঁছেছে: ১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল
এদিকে, বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরে ‘এমটি গ্রান কুভা’ নামের একটি জাহাজ পৌঁছেছে, যা চীনের ইউনিপেক প্রতিষ্ঠান থেকে ১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল সরবরাহ করেছে। শুক্রবার এই তেল খালাসের কথা রয়েছে বলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বিপিসির মহাব্যবস্থাপকের বক্তব্য: মজুত ও ব্যবহার পরিকল্পনা
বিপিসির জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক ইউসুফ হোসেন ভুঁইয়া জানিয়েছেন যে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে প্রায় ২ লাখ টন ডিজেল মজুত রয়েছে। নতুন আসা ১০ হাজার লিটার ডিজেল এই মজুতের সঙ্গে যুক্ত হবে। আমদানি করা ডিজেল মূলত পরিবহণ ও শিল্প খাতে ব্যবহার করা হবে, অন্যদিকে জেট ফুয়েল বিমানবন্দরগুলোতে সরবরাহ করা হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে বিপিসি ডিজেল, পেট্রল, অকটেন, জেট ফুয়েলসহ পাঁচ ক্যাটাগরির জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহ করে থাকে। দেশের বিভিন্ন ডিপোতে মজুত তেল ও পাইপলাইনে থাকা তেল ব্যবহার করে আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত চাহিদা সামাল দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
ব্যবহারকারীদের অভিযোগ: রেশনিং ও সরবরাহ সংকট
যদিও সরকারি পর্যায়ে সংকটের কথা স্বীকার করা হচ্ছে না, তবুও ব্যবহারকারীরা চট্টগ্রামে আমদানি পণ্য পরিবহণকারী লাইটার জাহাজ ও মাছ ধরা ট্রলারে রেশনিং করে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। পেট্রল পাম্পগুলোতেও চাহিদামত তেল মিলছে না, যার ফলে স্বাভাবিক ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ তুলেছেন।
এই পরিস্থিতিতে পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির আহ্বান একটি সমন্বিত প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জনসচেতনতা ও সহযোগিতা বাড়াতে পারে।



