জ্বালানি তেলে প্রতিদিন ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সরকার প্রতিদিন জ্বালানি তেলে ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। তিনি বলেন, বহির্বিশ্বের অস্থিরতার মধ্যেও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করেনি সরকার। শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুর ১২টায় যশোরে দুঃস্থ ও অসহায় ব্যক্তির মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে এই মন্তব্য করেন তিনি।
জ্বালানি চাহিদা নিশ্চিত করতে সক্ষম সরকার
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে বিদ্যুৎ, গণপরিবহন ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি পায়। চতুর্দিক থেকে চাপ থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা করেনি সরকার। জনগণের দুর্ভোগ কোনো কারণে যাতে না বাড়ে, সেটি নিশ্চিত করতে প্রতিদিন সরকার ১৬৭ কোটি টাকা জ্বালানি তেলে ভর্তুকি দিচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, আগামী এপ্রিল পর্যন্ত জনগণের জ্বালানি তেলের চাহিদা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে সরকার। জ্বালানি তেল নিয়ে অনেকের মধ্যে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। এখন পর্যন্ত পৃথিবীর ৮০টি দেশ জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করলেও বাংলাদেশ সরকার জ্বালানি দাম বৃদ্ধির পরিকল্পনা করেনি। সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রেখেছে সরকার।
জ্বালানি চাহিদার পরিসংখ্যান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কিন্তু আমাদের চাহিদা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। গড়ে প্রতিদিন ডিজেলের চাহিদা ছিল ১২ হাজার টন। পেট্রোল-অকটেনের চাহিদা ছিল ১২০০ থেকে ১৪০০ মেট্রিক টন। ঈদের আগে গড়ে প্রতিদিন ২৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমরা সরবরাহ করেছি। বর্তমান সরকার এপ্রিল পর্যন্ত জনগণের জ্বালানি চাহিদা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী দিনগুলোতেও বর্তমান সরকার ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করতে পারি, সেটির কাজ শুরু করেছি। আমরা মনে করছি, এভাবেই কম বেশি সংকটের মধ্য পরিচালিত হবে।
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও সরকারের দায়িত্ব
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, রাষ্ট্রের সব নাগরিকের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণে ১৯৯১ সালে সরকার গঠনের পর সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভাতা কর্মসূচি চালু করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। পরে বিভিন্ন সরকার উপকারভোগী ও ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ১৫ বছরে প্রকৃত লোকেরা বঞ্চিত হয়েছেন। নির্বাচনের আগে মানুষের দোরগোড়ায় গিয়েছি। বঞ্চিত মানুষের আকুতি শুনেছি। আমরা চাই যাদের ভাতা প্রাপ্তির হক আছে, তারাই যেন পান। উপকারভোগী বাছাইয়ে যেন রাজনৈতিক কিংবা ধর্মীয় পরিচয় প্রাধান্য না পায়।
সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণের উদ্যোগ
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণের কাজ শুরু করেছে। ফ্যামিলি কার্ডের কাজ শুরু হয়েছে। ধর্মগুরুদের সম্মানি চালু হয়েছে। পহেলা বৈশাখে কৃষক কার্ড চালু হবে। রাষ্ট্রের পাশাপাশি জনগণকে প্রতিবেশী ও আত্মীয়ের হক আদায় করলে সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমে আসবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ১৫৩ জন দুঃস্থ ও অসহায় ব্যক্তির হাতে এককালীন আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন প্রধান অতিথি। যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার, প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাজসেবা অধিদফতর যশোরের উপপরিচালক হারুন অর রশিদ।



