ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জরুরি জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ৩ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল কেনার অনুমোদন
জরুরি জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ৩ লাখ টন ডিজেল কেনার অনুমোদন

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জরুরি জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ৩ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল কেনার অনুমোদন

বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে দেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণে সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ৩ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির একটি ভার্চুয়াল সভায় গৃহীত হয়েছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অর্থনৈতিক কমিটির সভায় অনুমোদন

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে জুম অ্যাপের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয় অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের ২৯তম এবং ২০২৬ সালের ষষ্ঠ সভা। এই সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহ্বায়ক, অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দুটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক ক্রয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে এই ডিজেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

ডিজেল ক্রয়ের বিস্তারিত বিবরণ

জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সরকার যে ৩ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার মধ্যে দুটি কোম্পানির মাধ্যমে ক্রয় করা হবে। প্রথমত, এপি এনার্জি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল কেনা হবে, যা মোট ক্রয়ের প্রায় ৫৫% অংশ। এই ডিজেলের মাত্রা হবে ইন৫৯০-(১০ পিপিএম)। দ্বিতীয়ত, সুপারস্টার ইন্টারন্যাশনাল (গ্রুপ) লিমিটেড থেকে ২ লাখ মেট্রিক টন ইন৫৯০ ইউরো ৫ (১০ পিপিএম) মাত্রার ডিজেল কেনার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই ক্রয়গুলো সরাসরি আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে সম্পন্ন হবে, যা জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রভাব

বর্তমান বিশ্বে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ পরিস্থিতি জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, যা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জিং। এই প্রেক্ষাপটে সরকারের ৩ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল কেনার সিদ্ধান্তটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। এটি শিল্প, পরিবহন ও কৃষি খাতে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে ভূমিকা পালন করবে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের জরুরি ক্রয় দেশকে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব থেকে রক্ষা করতে পারে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তটি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত পদক্ষেপের প্রতিফলন। অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নিয়মিত সভাগুলোতে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো গৃহীত হয়, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখে। এই ডিজেল ক্রয়টি শুধুমাত্র জরুরি চাহিদা মেটাতেই নয়, বরং ভবিষ্যতের জ্বালানি সংকট মোকাবেলায়ও প্রস্তুতি হিসেবে কাজ করবে।