মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে রাঙামাটিতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, মোতায়েন সেনাবাহিনী
রাঙামাটিতে জ্বালানি তেল সংকট, মোতায়েন সেনাবাহিনী

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে রাঙামাটিতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতির প্রভাবে পর্যটনশহর রাঙামাটিতে জ্বালানি তেলের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বুধবার ভোর রাত থেকেই ফিলিং স্টেশনগুলোর সামনে তেলের জন্য অপেক্ষায় অনেক মানুষ জমায়েত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী, যারা আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করছেন।

ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি

বেশির ভাগ পাম্প বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। যেসব পাম্প খোলা রয়েছে, সেগুলোতেও লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে। যানবাহনগুলো তেল নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছে। চালক ও সাধারণ ভোক্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে এই সংকটে বিপাকে পড়েছেন তারা। পরিবহন থেকে শুরু করে দৈনন্দিন কাজ, সবখানেই পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব।

সংকট আরও বাড়ার আশঙ্কায় অনেকে আগেভাগেই ডিজেল, অকটেন ও পেট্রল কিনে রাখতে শুরু করেছেন। কোথাও কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। জেলার চারটি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে মাত্র একটি জ্বালানি দিচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তেলের জন্য মারামারির ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সেনাবাহিমী মোতায়েন ও স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

জ্বালানি তেলের জন্য পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের কারণে বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সেনাসদস্যরা পেট্রল পাম্পগুলোতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর পাম্প থেকে তেল নিয়ে বের হওয়ার সময় জসিম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি জানান, ঈদের ছুটিতে মোটসাইকেল নিয়ে রাঙামাটি বেড়াতে এসে তেলের কারণে আটকে গেছেন। তিনি ভোররাত থেকে পাম্পে অবস্থান করে ৫শ টাকার তেল পেয়েছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় চাকরীজীবী ইনা চাকমা বলেন, ‘অফিস থেকে আজ ছুটি নিয়ে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিলাম। এভাবে আর কতদিন পার করতে হবে জানি না।’ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মাঈন উদ্দিন ও রাহুল চাকমা বলেন, ‘দুপুর হয়ে আসলো, কখন তেল পাবো জানি না। আদৌ পাবো কিনা তার ঠিক নেই।’ এই সংকটের প্রভাবে রাঙামাটির দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন।