জ্বালানি মূল্য স্থিতিশীল রাখার পেছনে সরকারের যুক্তি
দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। বুধবার (২৫ মার্চ) সচিবালয়ে সরকারের একমাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ
ডা. জাহেদ উর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, সরকার বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে বেশি দামে তেল ক্রয় করছে। তবে, মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা থাকায় তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে না। তিনি উল্লেখ করেন, এ পরিস্থিতিতে জনগণকে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে এবং অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেন।
কাতারের গ্যাসক্ষেত্রে হামলা ও বাংলাদেশের এলএনজি সরবরাহ
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও জানান, কাতারের জ্বালানি ক্ষেত্র, বিশেষ করে গ্যাসক্ষেত্রে সাম্প্রতিক হামলায় প্রায় ২০ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে। এই ঘটনার ফলে চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রতিশ্রুত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, এ ধরনের বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সরকার সতর্কতা অবলম্বন করছে।
নজরদারি বাড়ানো ও বিভ্রান্তি রোধের আহ্বান
জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো বন্ধের অনুরোধ জানিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, কোনো পাম্প মালিক অবৈধভাবে জ্বালানি মজুত করছে কিনা তা খতিয়ে দেখবে সরকার। এ জন্য নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করা।
তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ও সরকারের অবস্থান
এদিকে, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন একই সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। তবে, তিনি নিশ্চিত করেন যে দেশে এই মুহূর্তে জ্বালানি সংকট নেই এবং জ্বালানির মূল্য বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। মন্ত্রী জনগণকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি না কেনার আহ্বান জানান।
সরকারের এই পদক্ষেপগুলো জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টার অংশ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।



