জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর সভা: ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ
দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও সংকট মোকাবিলায় ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণে এক উচ্চপর্যায়ের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে ঢাকা সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি সম্পন্ন হয়। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ৯টা ২ মিনিটে সচিবালয়ে আসেন এবং তার কিছু দাপ্তরিক কাজ সারেন। এরপর মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে স্মারক ডাক টিকিট উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজ দপ্তরে তিনি ‘জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয়’ নিয়ে সভায় সভাপতিত্ব করেন।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব ও সরকারের প্রস্তুতি
জানা গেছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের কিছু দিন পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের সূত্রপাত নতুন প্রশাসনের সামনে এক বিশাল অনিশ্চয়তা ও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও সংকটের প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা নবগঠিত সরকারের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির এই ভয়াবহ অভিঘাত শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা এখনো নিশ্চিত হতে পারছেন না। এমন সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সদ্য ক্ষমতাসীন সরকার ঠিক কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে বর্তমানে সর্বমহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ কার্যালয়ে এ জরুরি সভা করেন।
সভার মূল উদ্দেশ্য ও প্রত্যাশা
এই সভার মাধ্যমে সরকার জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটের গভীরতা বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য সমাধান ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণের চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই বৈঠকটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদান করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়াও, সভায় বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি আমদানি, এবং দাম স্থিতিশীল রাখাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, তারা এই সংকট মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি মূল্যের ওঠানামা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর এই সভা একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



