ঈদের পর ডেমরায় তেল সংকটে চরম ভোগান্তি, পাম্প বন্ধ থাকায় যানবাহন চালকরা বিপাকে
ঈদের পর ডেমরায় তেল সংকটে চরম ভোগান্তি, পাম্প বন্ধ

ঈদের পর ডেমরায় তেল সংকটে চরম ভোগান্তি, পাম্প বন্ধ থাকায় যানবাহন চালকরা বিপাকে

রাজধানীর ডেমরা এলাকায় ঈদুল ফিতরের পর থেকে তেল সংকট ক্রমেই বাড়ছে, যার ফলে মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন যানবাহন চালকরা চরম হাহাকারের মধ্যে পড়েছেন। ঈদের দুই দিন আগ পর্যন্ত পাম্পগুলোতে কোনমতে তেল পাওয়া গেলেও, তারপর থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে, স্থানীয় পেট্রল পাম্পগুলোতে তেল মিলছে না বললেই চলে।

পাম্প বন্ধ থাকায় যানবাহন চালকদের মহাসংকট

ঈদের এক দিন আগে থেকে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ডেমরার প্রায় সকল পেট্রল পাম্প বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। ঈদের পর দু’একটি পাম্প অল্প সময়ের জন্য তেল দিতে পারলেও, বেশিরভাগ সময়ই সেগুলো বন্ধ ছিল। এতে ডেমরা ও আশেপাশের থানা এলাকার যানবাহন চালক, প্রাইভেটকার চালক ও মোটরসাইকেল চালকরা তেল শূন্যতায় মহাসংকটের মুখোমুখি হয়েছেন।

তেল সংকটের কারণে চালকদের দূর-দূরান্ত থেকে তেল আনতে হচ্ছে, এবং সেটাও অল্প পরিমাণে। অকটেন-পেট্রল ও ডিজেল পর্যাপ্ত না পাওয়ায়, এখানকার পেট্রল পাম্পগুলো ঈদের পর থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার চালকরা এই অবস্থায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরকারি রেশনিং তুলে নেওয়া সত্ত্বেও সংকট অব্যাহত

সরকারিভাবে রেশনিং তুলে নেওয়ার পরও, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ডেমরায় অধিকাংশ পেট্রল পাম্পে স্বাভাবিকতা ফিরেনি। পাম্পগুলো এখনো গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে পারছে না, এবং আগের তুলনায় বর্তমানে তেল অনেক কম পরিমাণেও মিলছে না। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরা এই সংকটে চরম বিপাকে রয়েছেন।

ঈদের ছুটিতে পণ্যবাহী যানবাহন ও ট্রাকগুলো বন্ধ থাকায় তাদের বিড়ম্বনা কিছুটা কম থাকলেও, মঙ্গলবার মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে। এই সময় দু’একটি পাম্পে অল্প তেল সরবরাহ হলেও, সিরিয়াল দীর্ঘ হয়ে যাচ্ছে, যা চালকদের জন্য অতিরিক্ত সময়ক্ষেপণের কারণ হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ডিপো থেকে তেল সরবরাহ না হওয়ায় পাম্প মালিকদের ক্ষতি

মঙ্গলবার দিনব্যাপী ডেমরা-রামপুরা ও ডেমরা-যাত্রাবাড়ী সড়কে তেলবাহী বড় বড় কিছু ট্রাক চলতে দেখা গেলেও, ডেমরার পাম্পগুলোতে প্রয়োজনীয় তেল সরবরাহ করেনি সংশ্লিষ্ট ডিপোগুলো। ডেমরার কয়েকটি পেট্রোল পাম্পের মধ্যে, একই নিয়মে কাউকে ডিজেল দিলে পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে তার অর্ধেক পরিমাণ, আবার কোনো পাম্পে পেট্রল, অকটেন ও ডিজেল একবারেই পাওয়া যাচ্ছে না।

পাম্প মালিকদের অভিযোগ, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রতিটি পাম্পে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনসহ ঈদ বোনাস দিতে কষ্ট হয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ডেমরার পাম্পগুলোতে প্রয়োজনীয় তেল না পাওয়ায়, গ্রাহক ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। সরকারি ঘোষণায় রেশনিং তুলে নিলেও, প্রকৃতপক্ষে এখনো রেশনিং চলমান রয়েছে পাম্পগুলোর ক্ষেত্রে।

স্থানীয় পর্যায়ে পাম্পের অবস্থা

সরেজমিন দেখা গেছে, ডেমরার কোনাপাড়া এলাকায় মঙ্গলবারেও সিটি পেট্রোল পাম্প কিছু সময় খোলা থাকলেও, বেশিরভাগ সময় বন্ধ ছিল। একই সঙ্গে ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার এলাকার রাসেল ফিলিং স্টেশন, মিরপাড়া সিকদার ফিলিং স্টেশন ও মুন পেট্রোল পাম্পে কিছু সময় তেল বিক্রি করলেও, দিনভর পাম্প বন্ধ রাখতে হয়েছে।

খিলগাঁও থানাধীন নাকদার পাড় এলাকায় কিকো ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার চালকদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। ডেমরার মিরপাড়া সিকদার ফিলিং স্টেশনে মঙ্গলবার দুপুরে পাম্প চালু থাকলেও, পরে বন্ধ ছিল বলে জানা গেছে।

গ্রাহক ও পাম্প মালিকদের বক্তব্য

রূপগঞ্জের যাত্রামুড়া এলাকা থেকে সিকদার ফিলিং স্টেশনে প্রাইভেট কারের তেল নিতে আসা গ্রাহক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “আমি আশা করে রূপগঞ্জ থেকে ডেমরায় তেল নিতে এসে দেখি পাম্প বন্ধ। এতে করে তেল নিতে আমার যে তেল পুড়েছে, প্রাইভেটকারের সেটা আরও বড় ক্ষতি হয়ে গেল। আমার গাড়ি সিএনজি করা নাই বলে আমি ঝামেলায় পড়েছি।”

এ বিষয়ে সিকদার ফিলিং স্টেশনের মালিক পরিচালক মো. রনি মুন্সি জানান, “ঈদের আগের দিন থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ডিপো থেকে তেল পাইনি। মঙ্গলবার দুপুরে অল্প কিছু তেল পেলেও পাম্প বন্ধ রাখতে হয়েছে। বর্তমানে তেল বিক্রি করতে পারছি না বলে আমাদের মোটা অংকের লোকসান হবে, যা ওপেন সিক্রেট।”

বর্তমানে ডেমরা এলাকায় তেল সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে, এবং এই অবস্থা দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকরা।