রিলায়েন্স ইরান থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল কিনতে যাচ্ছে, প্রতি ব্যারেল মাত্র ৭ ডলার
রিলায়েন্স ইরান থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল কিনবে, প্রতি ব্যারেল ৭ ডলার

রিলায়েন্স ইরান থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল কিনতে যাচ্ছে, প্রতি ব্যারেল মাত্র ৭ ডলার

ভারতের বৃহত্তম তেল শোধনাগার রিলায়েন্স ইরান থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ক্রয়ের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ইরানি তেলের ওপর থেকে অস্থায়ীভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তের পরপরই এই খবর সামনে এসেছে। বিষয়টির সঙ্গে যুক্ত তিনটি সূত্র মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

তেল ক্রয়ের বিস্তারিত তথ্য

দু’টি সূত্র জানিয়েছে, ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানি থেকে এই বিপুল পরিমাণ তেল কিনবে রিলায়েন্স। একটি সূত্র উল্লেখ করেছেন, “প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য রিলায়েন্স মাত্র সাত মার্কিন ডলার খরচ করতে যাচ্ছে, যা বর্তমান বাজার দরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।” তবে, কবে নাগাদ এই তেল সরবরাহ করা হবে সে বিষয়ে এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ভারতের তেল আমদানির প্রেক্ষাপট

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের জন্য এই চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০১৯ সালের মে মাস থেকে ইরানি তেল আমদানি বন্ধ রেখেছিল দিল্লি। এরপর প্রথমবারের মতো দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির সঙ্গে ইরানের তেল নিয়ে চুক্তি হচ্ছে, যা জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশ্ব জ্বালানি বাজারের অস্থিতিশীলতা

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব জ্বালানি তেলের বাজার অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। ক্রমাগতভাবে তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এরপরই রাশিয়া থেকে তেল আমদানির জন্য ওয়াশিংটনের দ্বারস্থ হয় দিল্লি। অনুমতি পাওয়ার পর সেখান থেকে তেল কেনা শুরু করে তারা। ইতিমধ্যে রাশিয়ার ৪০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ভারতে পৌঁছেছে। রুশ তেল ভারতে পৌঁছানোর পরই ইরানি তেল কেনার বিষয়টি সামনে এলো, যা ভারতের জ্বালানি বৈচিত্র্যকরণ কৌশলের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যান্য এশীয় রিফাইনারিদের অবস্থান

কয়েকটি সূত্র বলেছে, ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য এশীয় রিফাইনারিরা ইরানের তেল কিনতে পারবে কি না তা যাচাই করছে। তবে, এশিয়ার শীর্ষ রিফাইনারি শিনোপেক ইরানি তেল কিনতে ইচ্ছুক নয় বলে জানা গেছে। এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বিভিন্ন দেশের ভিন্নমুখী কৌশলকে তুলে ধরছে।

এই চুক্তি শুধুমাত্র ভারতের জ্বালানি চাহিদা পূরণেই নয়, বরং বিশ্ব তেল বাজারে নতুন গতিশীলতা আনতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন। রিলায়েন্সের এই পদক্ষেপ জ্বালানি আমদানিতে ভারতের কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় চুক্তির দিকে নিয়ে যেতে পারে।