রাজশাহীতে তেল সংকট: পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি
রাজশাহী নগরের বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে তেল সংকটের কারণে দীর্ঘ লাইন ও যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিটি মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকার পেট্রল দেওয়া হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। এই অবস্থা ঈদের আগে থেকেই চলছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
পাম্পে তেলের অভাব ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
সাগরপাড়ার মেসার্স আফরীন পেট্রলপাম্পে গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে তেল শেষ হয়ে গেছে। টানা তিন দিন পর মঙ্গলবার বিকেলে এক গাড়ি তেল পাওয়ার কথা থাকলেও, পাম্পের সামনে দড়ি টানিয়ে রাখা হয়েছে। নোটিশে লেখা রয়েছে, 'পেট্রল নাই, অকটেন নাই'। পাম্প পাহারায় তিন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত আছেন। ব্যবস্থাপক সোলায়মান কবির জানান, চাঁদরাত সন্ধ্যা থেকে তেল নেই এবং মাঝখানে দুই দিন ডিপো বন্ধ ছিল।
বরাদ্দের সীমাবদ্ধতা ও ভোগান্তি
রাজশাহী পদ্মা অয়েল কোম্পানির উপব্যবস্থাপক আরিফুল ইসলাম বলেন, গত বছর মার্চ মাসের চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। রাজশাহী জেলার জন্য মঙ্গলবার ১৮ হাজার লিটার পেট্রল ও অকটেন বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে, তিনি দাবি করেন যে তেলের সংকট হওয়ার কথা নয়; মানুষ আতঙ্কে বেশি তেল নিচ্ছে বা মজুত করছেন, যা সংকট তৈরি করছে।
কুমারপাড়ার গুলগফুর পেট্রোলিয়ামে ৩০০ টাকা পর্যন্ত তেল দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে গাড়ির সারি রাস্তা পর্যন্ত চলে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যানজট সামলাতে দেখা গেছে। নাটোরের লালপুর উপজেলার সততা ফিলিং স্টেশনে একই অবস্থা বিরাজ করছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা কে এম শাহাদাত ইমাম দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল নিতে পারেননি, কারণ পাম্পের কাছে যেতেই তেল শেষ হয়ে যায়।
পাম্প মালিকদের অভিযোগ ও প্রস্তাব
পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি মনিমুল হক জানান, ঈদের পর তিনি তেল নেননি, কারণ বরাদ্দ কম এবং গাড়ি ভাড়া বেশি। তিনি নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে বলেন, এক বাইকার হুমকি দিয়ে পাম্পে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। মনিমুল হকের প্রস্তাব হলো, যাদের গাড়ির কাগজ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে, তাদেরই তেল দেওয়া হলে সংকট দূর হতে পারে।
রাজশাহী জেলায় মোট ৪৪টি পাম্প রয়েছে এবং সবগুলোর অবস্থা একই। এই সংকটের ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ব্যাপক ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে, যা দ্রুত সমাধানের প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।



