ঈদের পর জ্বালানি সংকটে দেশের বিভিন্ন জেলায় ফিলিং স্টেশন বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে যানবাহন চালকরা
জ্বালানি সংকটে দেশের বিভিন্ন জেলায় ফিলিং স্টেশন বন্ধ

ঈদের পর জ্বালানি সংকটে দেশের বিভিন্ন জেলায় ফিলিং স্টেশন বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে যানবাহন চালকরা

ঈদের পর দেশের বিভিন্ন জেলায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। রাজশাহী, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, কুড়িগ্রাম, বগুড়া, রংপুর, খুলনা ও বরিশালসহ একাধিক জেলায় পেট্রল, ডিজেল ও অকটেনের সরবরাহ না থাকায় হাজার হাজার গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেক জেলায় ফিলিং স্টেশনগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে, যার ফলে যানবাহন চালকরা তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

রাজশাহী ও পঞ্চগড়-দিনাজপুর সড়কে সংকটের চিত্র

রাজশাহীতে ৪৪টি ফিলিং স্টেশনের অর্ধেকের বেশি বন্ধ রয়েছে। বাকিগুলোতেও তেল নেই বললেই চলে। জেলার গণমাধ্যমকর্মী মাহী ইলাহি জানান, তিনি সোমবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ২০টি পাম্প ঘুরেও কোথাও তেল পাননি। রাজশাহী জেলা পেট্রল পাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান শিমুল বলেন, ‘পাম্পগুলোতে যা মজুত ছিল তা ঈদের আগেই শেষ হয়ে গেছে। ডিপো থেকে শুধু ডিজেল দেওয়া হচ্ছে, পেট্রল-অকটেন পাওয়া যাচ্ছে না।’ তিনি পাম্পগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন, যাতে তেল বিক্রি শুরু হলে বিশৃঙ্খলা না হয়।

পঞ্চগড়-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ৯৩ কিলোমিটারের ৪৬টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে ৪৩টি বন্ধ রাখা হয়েছে। এখানে পেট্রল ও অকটেনের সংকট তীব্র। ঠাকুরগাঁওয়ের চৌধুরী ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী বলেন, ‘গত শুক্রবার তেল পেয়েছি, আজ সাড়ে তিন হাজার লিটার পেট্রল পেলাম। রেশনিং পদ্ধতিতে দেওয়া ছাড়া উপায় নেই।’ পঞ্চগড় ধাক্কামাড়া এলাকার একটি পাম্পের কর্মচারী ফারুক আলম উল্লেখ করেন, ‘একটা অ্যাম্বুলেন্স যদি আসে, একফোঁটা জ্বালানি দিতে পারবো না।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও কুড়িগ্রামে সংকটের অবস্থা

চট্টগ্রামের বেশ কিছু পেট্রল পাম্পে গত কয়েকদিন ধরে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল মিলছে না। পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম বিভাগের সদস্যসচিব মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন বলেন, ‘চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৪৬টির মতো পেট্রল পাম্প আছে। কোনও কোনও পাম্পে ডিজেল থাকলে অকটেন নেই, আবার অকটেন থাকলেও নেই ডিজেল। তবে মঙ্গলবার বিকালের মধ্যে এই সংকট কেটে যাবে বলে মনে করছি।’

ময়মনসিংহের বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশন ঈদের দিন সকাল থেকেই বন্ধ রয়েছে। নগরীর সাইফুল ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার কামরুল হাসান জানান, ‘ফিলিং স্টেশনে মজুতকৃত জ্বালানি তেল ঈদের আগের দিন রাতেই শেষ হয়ে গেছে। তেল না থাকায় ঈদের দিন সকাল থেকে স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে।’

কুড়িগ্রামে জেলার ২০টি ফিলিং স্টেশনের প্রতিটি জ্বালানি ‘তেলশূন্য’ হওয়ায় রবিবার থেকে সেগুলো বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ফুয়েল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জামান আহমেদ বলেন, ‘তেল না থাকায় মালিকরা জেলার পেট্রল পাম্পগুলো বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু গ্রাহকরা তেল না পেয়ে উত্তেজিত হচ্ছেন।’ জেলা প্রশাসন অভিযান চালালেও পর্যাপ্ত তেলের সন্ধান মেলেনি।

বগুড়া, রংপুর, খুলনা ও বরিশালে সংকটের প্রভাব

বগুড়ায় জেলার ৭২টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে অর্ধেকের বেশি বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন রাজশাহী বিভাগীয় সভাপতি মিজানুর রহমান রতন জানান, ‘সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আজকালের মধ্যে কিছু জ্বালানি আসছে, তা দিয়ে সংকট পরিস্থিতির কিছুটা লাঘব হবে।’

রংপুরের ৪০ ফিলিং স্টেশনের বেশিরভাগে জ্বালানি নেই, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্তত ২০টি স্টেশন বন্ধ ছিল। ফিলিং স্টেশন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা মহসিন বলেন, ‘ডিপু থেকে জ্বালানি না পাওয়ায় তারা তেল বিক্রি করতে পারছেন না।’

খুলনা জেলা পেট্রল পাম্প মালিক সমিতির সহসভাপতি মহিবুল হাসান বলেন, ‘খুলনা জেলায় ৩৬টি পাম্প রয়েছে। চাহিদা মতো তেল না পাওয়ায় সবগুলো পাম্পই সংকটে রয়েছে। ডিপো থেকে যা তেল দেওয়া হয়, চাপ বেশি থাকার কারণে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়ে যায়।’

বরিশালে জেলার প্রায় ১০০টি পেট্রল পাম্প রয়েছে, কিন্তু দিনের বেশিরভাগ সময় বন্ধ রাখতে হচ্ছে। বরিশাল পেট্রল পাম্প ও ট্যাংক লরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শওকত আকবর বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে প্রতিদিনই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘণ্টার বেশি পাম্পে তেল থাকে না। যে পরিমাণ তেল সরকার থেকে নির্ধারিত করা রয়েছে তা দিয়ে ১০ ঘণ্টাও চলার মতো না।’

সর্বোপরি, দেশের বিভিন্ন জেলায় জ্বালানি তেলের এই সংকট যানবাহন চালকদের জন্য চরম ভোগান্তির সৃষ্টি করেছে, এবং ডিপো থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় ফিলিং স্টেশন মালিকরাও বিপাকে পড়েছেন।