কুড়িগ্রামে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট: ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলচালকদের দীর্ঘ সারি
কুড়িগ্রামে জ্বালানি তেল সংকট, ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সারি

কুড়িগ্রামে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট: ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলচালকদের দীর্ঘ সারি

কুড়িগ্রামে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যার ফলে ফিলিং স্টেশনগুলোতে মোটরসাইকেলচালকদের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সোমবার দুপুরে শহরের খলিলগঞ্জ আরকে রোড এলাকায় এই দৃশ্য ধরা পড়েছে। জেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারির মধ্যেও সরবরাহ-স্বল্পতায় ফিলিং স্টেশনগুলো চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষ ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চরম ভোগান্তির মুখে ফেলেছে।

জ্বালানি সরবরাহে বড় ঘাটতি

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার ২০টি ফিলিং স্টেশনের বেশির ভাগেই পেট্রল ও অকটেনের ঘাটতি রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করতে না পারায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুসারে, জেলায় জ্বালানি তেলের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৪ লাখ লিটার, কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র প্রায় ৫০ হাজার লিটার।

জ্বালানি তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির সরবরাহ অনিয়মিত হওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। ঈদের ছুটিতে তেল সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। অধিকাংশ স্টেশনে ডিজেল সীমিত আকারে পাওয়া গেলেও পেট্রল ও অকটেন প্রায় নেই বললেই চলে। কয়েকটি স্টেশন আংশিক খোলা থাকলেও বেশির ভাগই বন্ধ অবস্থায় রয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সাধারণ মানুষের ভোগান্তি

সংকটের কারণে ফিলিং স্টেশনগুলোতে সকাল থেকেই মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাচ্ছেন না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে একেকটি মোটরসাইকেলে ১০০ টাকার বেশি পেট্রল দেওয়া হচ্ছে না, এবং তা-ও সব স্টেশনে পাওয়া যাচ্ছে না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বাসিন্দা মোটরসাইকেলচালক হামিদুল ইসলাম বলেন, "ঈদের আগের দিন থেকেই আমার এলাকায় পেট্রল নেই। প্রয়োজনের তাগিদে সদর উপজেলায় এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুরেও পর্যাপ্ত জ্বালানি পাইনি। অনেক স্টেশন বোতলে পেট্রল দিচ্ছে না, আবার যাঁরা বাইক নিয়ে আসছেন, তাঁদেরও সীমিত পরিমাণে দেওয়া হচ্ছে।" এই পরিস্থিতিতে দূরপাল্লার যানবাহন ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রশাসনের তদারকি ও পদক্ষেপ

সংকট মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ফিলিং স্টেশন ও জ্বালানি তেল বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে কঠোর নজরদারি জোরদার করেছে। জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে গঠিত মনিটরিং টিম নিয়মিত বিভিন্ন স্টেশন পরিদর্শন করছে।

জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, "পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।" তিনি আরও জানান, জ্বালানি তেলের সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এই সংকটের প্রভাব কুড়িগ্রামের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পড়ছে, বিশেষ করে পরিবহন খাতের উপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।