ঈদের পর গোদনাইলে জ্বালানি তেলের ডিপোতে ট্যাঙ্কলরির দীর্ঘ সারি, ভোগান্তিতে চালকরা
ঈদুল ফিতরের ছুটির পর নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল এলাকায় জ্বালানি তেলের ডিপোতে ট্যাঙ্কলরির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। সোমবার সকাল থেকে তেল উত্তোলন শুরু হলে ডিপোগুলোর সামনে ভিড় বাড়তে থাকে, যার ফলে চালক ও শ্রমিকরা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
ঈদের ছুটিতে দুদিন বন্ধ থাকায় সংকট তৈরি
ঈদের দিন ও পরদিন ডিপোতে তেল উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় জমে থাকা চাহিদার কারণে আজ সকাল থেকে ট্যাঙ্কলরির চাপ বেড়ে গেছে। গোদনাইলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের আওতাধীন পদ্মা অয়েল ডিপো ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের ডিপো রয়েছে, যা দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত।
দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, ডিপো এলাকায় শত শত ট্যাঙ্কলরি দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। ডিপোর প্রবেশপথ থেকে শুরু করে ভেতর পর্যন্ত এই লাইন বিস্তৃত, যেখানে নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
চালকদের অভিযোগ: তেল কম পাওয়া ও দীর্ঘ অপেক্ষা
নরসিংদী থেকে আসা ট্যাঙ্কলরির চালক মো. কাউসার বলেন, তিনি সকাল নয়টায় এসে বিকেল তিনটার দিকে তেল উত্তোলন করতে পেরেছেন। গাজীপুর থেকে আসা বেনু হোসেন নামে আরেক চালক অভিযোগ করেন, ‘আমাদের চাহিদা ১৮ হাজার লিটার হলেও ৯ হাজার লিটার তেল পেয়েছি। সংকটের কারণে তেল কম দেওয়া হচ্ছে।’
অন্যান্য চালকরাও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। পান্না মিয়া সহ কয়েকজন চালক জানান, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও দ্রুত তেল পাওয়া যাচ্ছে না, যা গন্তব্যে জ্বালানি পৌঁছাতে বিলম্ব ঘটাচ্ছে।
ফিলিং স্টেশনগুলোতে সংকট ও বাগ্বিতণ্ডা
কয়েকজন সূত্র জানান, ফিলিং স্টেশনগুলোতে পেট্রল ও অকটেনের সংকট দেখা দিয়েছে। তেল দিতে না পারায় পাম্পগুলোতে যানবাহন চালকদের সঙ্গে নানা বাগ্বিতণ্ডার ঘটনা ঘটছে। একাধিক ফিলিং স্টেশনের মালিক ও ট্যাঙ্কলরির চালকরা বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না, যা দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।
ডিপো কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: সংকট নেই, স্বাভাবিক হবে
পদ্মা অয়েল ডিপোর ব্যবস্থাপক আমিনুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ঈদের কারণে ডিপো দুদিন বন্ধ ছিল এবং আজ সোমবার থেকে তেল সরবরাহ কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। তিনি দাবি করেন, জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই, সরকার-নির্ধারিত হারে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ছুটির কারণে সাময়িক চাপ তৈরি হলেও দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহা আবদুল বারিক নিশ্চিত করেছেন যে গোদনাইলের দুই ডিপোতে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও আনসার সদস্য মোতায়েন রয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
এই সংকটের প্রভাব দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটাতে পারে, বিশেষ করে বাংলাদেশ বিমান ও সামরিক বাহিনীর মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর জন্য। দ্রুত তেল উত্তোলন ও সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত করা না হলে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।



