জ্বালানি মন্ত্রী টুকুর আশ্বাস: তেলের সংকট সাময়িক, সরবরাহ অব্যাহত
বাংলাদেশে পবিত্র রমজান মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাব ও অন্যান্য বৈশ্বিক কারণের জেরে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে। সরকার এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেলের রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছিল, তবে ঈদের কয়েকদিন আগেই সেই ব্যবস্থা তুলে নেওয়া হয়। ধারণা করা হচ্ছিল, ঈদের সময় ও এর পরে তেলের সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু বর্তমানে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না অনেক যানবাহন চালক।
পেট্রোল পাম্প বন্ধের শঙ্কা
জ্বালানি ঘাটতি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে যেকোনো সময় দেশের সব পেট্রোল পাম্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। এই সংস্থার বক্তব্যে বাজারে আরও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অবশেষে মুখ খুলেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
মন্ত্রীর বক্তব্য: আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান
সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে নিজ বাসায় কয়েকটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, “দু’দিন তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে ‘প্যানিক’ বা আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভর্তুকি দিয়েও গত বছরের তুলনায় পাঁচ শতাংশ বেশি তেল আমদানি করা হচ্ছে এবং সবাই তেল পাবে।
সংকট স্থায়ী নয়: সরকারের পর্যবেক্ষণ
জ্বালানি তেল নিয়ে বাজারে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা স্থায়ী কোনও সংকট নয় বলে মন্ত্রী জানান। “এটি মূলত ঈদকে ঘিরে সাময়িক পরিস্থিতির ফল। দেশে তেলের কোনও সংকট নেই এবং সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।” সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বাজারে যাতে কোনও অস্থিরতা না তৈরি হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রীর এই বক্তব্যে আশ্বাস মিললেও, সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা এখনও তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সতর্কতা এবং মন্ত্রীর আশ্বাসের মধ্যে একটি দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। সরকারের পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কতটা কার্যকর হবে, তা এখন সময়ই বলবে।



