কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত
কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। রোববার (২২ মার্চ) সকাল থেকে এলাকার মফস্বল বাজারগুলোতে অকটেন ও পেট্রোল পাওয়া যাচ্ছে না। এই সংকটের ফলে পরিবহন খাতসহ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
খুচরা দোকান থেকে পাম্প পর্যন্ত তেলের অভাব
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনোহরগঞ্জের মফস্বল এলাকার বাজারগুলোতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে। খুচরা দোকানগুলোতে তেল না পেয়ে চালকরা প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের লাকসাম উপজেলার এম.আর. ফিলিং স্টেশনের দিকে ছুটছেন। তবে সেখানে গিয়েও অনেকেই হতাশ হচ্ছেন, কারণ পাম্পটিতেও পেট্রোল বা অকটেনের মজুত নেই বলে জানানো হয়েছে।
মোটরসাইকেল চালকরা অভিযোগ করেন, ২২ মার্চ সকাল থেকেই তারা কোথাও তেল পাচ্ছেন না। এর আগে ২১ মার্চ ঈদের দিন অল্প পরিমাণ তেল পাওয়া গেলেও লিটারপ্রতি দেড় শতাধিক টাকায় বিক্রির অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জন্য অতিরিক্ত বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিবহন খাত ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর প্রভাব
জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে মনোহরগঞ্জ উপজেলাজুড়ে পরিবহন চলাচল আংশিকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও ছোট পরিবহনের চালকরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। এ ছাড়া এই সংকটের প্রভাব পড়ছে হাসপাতালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানেও, যেখানে জরুরি যানবাহন ও জেনারেট চালানোর জন্য জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হয়।
মোটরসাইকেল চালক নাছির উদ্দিন জানান, মনোহরগঞ্জ উপজেলা সদরের ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো পেট্রোল পাম্প নেই। এলাকার খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তেল নিয়েই তারা দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ করেন। কখনো বেশি তেলের প্রয়োজন হলে পাশ্ববর্তী লাকসাম উপজেলার এম.আর. ফিলিং স্টেশন থেকে সংগ্রহ করতে হয়।
পাম্প ম্যানেজারের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
নাছির উদ্দিন আরও বলেন, রোববার সকালে নিজ এলাকায় তেল না পেয়ে ওই পাম্পে গেলে সেখানে একটি সাইনবোর্ডে লেখা দেখতে পান—“মজুত শেষ হওয়ার কারণে পেট্রোল/অকটেন সরবরাহ বন্ধ।” পরে সেখান থেকেও খালি হাতে ফিরে আসতে হয়। তিনি অভিযোগ করেন, লাকসামে কদাচিৎ দু-একটি দোকানে অকটেন পাওয়া গেলেও লিটারপ্রতি ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা স্বাভাবিক মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি।
এ বিষয়ে মেসার্স এম.আর. ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার অমূল্য চন্দ্র দাস বলেন, মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় আপাতত পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ডিপো থেকে সরবরাহ পাওয়া সাপেক্ষে পুনরায় তেল বিক্রি শুরু হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। তবে কখন সরবরাহ পুনরায় চালু হবে, তার সুনির্দিষ্ট সময় জানাননি।
এই সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত মনোহরগঞ্জের বাসিন্দাদের জীবনযাত্রায় আরও বেশি চাপ পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।



