৯ মাস পর ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৭ নম্বর ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুনরায় শুরু
ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৯ মাস পর উৎপাদন শুরু

ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৯ মাস পর বিদ্যুৎ উৎপাদন পুনরায় শুরু

দীর্ঘ ৯ মাস বন্ধ থাকার পর দেশের বৃহৎ ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩৬৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৭ নম্বর ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুনরায় শুরু হয়েছে। শুক্রবার রাত ২টা থেকে এ ইউনিটে পুরোদমে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে বলে ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. এনামুল হক নিশ্চিত করেছেন।

গ্যাস সংকটের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল উৎপাদন

গ্যাস সংকটের জন্য ২০২৫ সালের ১৪ জুন ৭ নম্বর ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, গত দুই বছর ধরেই এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস সংকট চলছে। গ্যাস সংকটের কারণে গত ২০২৫ সালের ১৩ জুন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ৪ নম্বর ইউনিট, ৯ জুন ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ৫ নম্বর ইউনিট ও ১৪ জুন থেকে ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ৭ নম্বর ইউনিটের উৎপাদন একেবারে বন্ধ হয়ে যায়।

সূত্র জানায়, সরকার সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করার কারণে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গ্যাস বন্ধ করে দিয়েছিল। ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিকল্পভাবে গ্যাস সরবরাহ করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদনও করেছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গ্যাস পুনরায় সরবরাহ পাওয়ায় শুক্রবার রাত থেকেই এ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যান্য ইউনিটের বর্তমান অবস্থা

প্রধান প্রকৌশলী আরও জানান, ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩ নম্বর ইউনিটের টারবাইনের রোটারের ব্লেডে ত্রুটির কারণে সেটার মেরামতের কাজ চলছে। অপর ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিট দুটি প্রস্তুত আছে, পুরো গ্যাস পেলেই এ দুটির বিদ্যুৎ উৎপাদন চালু হবে।

২০১০ সালের জুন মাসে ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৬ নম্বর ইউনিটে আগুন লেগে টারবাইন পুড়ে যায়। সেই থেকে এ ইউনিটটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুরনো ইউনিটগুলোর ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

অপরদিকে, ১৯৬৭ সালে ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটটি রাশিয়া টেকনোপ্রম এক্সপার্ট নির্মাণ কাজ শেষ করলে ১৯৭৪ সালের জানুয়ারি মাসে মাত্র ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে যাত্রা শুরু করা হয়। পরে ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন অপর ২ নম্বর ইউনিটটি ১৯৭৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে উৎপাদনে আসে। এ দুটি ইউনিটে বার বার যান্ত্রিক সমস্যার কারণে দীর্ঘ ৯ বছর যাবত এ দুটি ইউনিটেরও উৎপাদন বন্ধ করে দেয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

১ ও ২ নম্বর ইউনিট দুটি ভেঙে নতুন করে অপর নতুন ইউনিট স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে। এই পদক্ষেপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সামগ্রিক উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন পুনরায় শুরু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।