মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি বাজারে চাপ, এয়ারলাইন্সের প্রস্তুতি
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাব ক্রমেই বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে পড়তে শুরু করেছে, যা বিভিন্ন শিল্প খাতকে উদ্বিগ্ন করে তুলছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স সম্ভাব্য বড় ধরনের তেলমূল্য বৃদ্ধির জন্য সতর্কতা ও প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী স্কট কিরবি কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় এই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৭৫ ডলারে পৌঁছানোর শঙ্কা
স্কট কিরবি তার বার্তায় স্পষ্ট করে বলেছেন, তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৭৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে—এমন পরিস্থিতিও তারা বিবেচনায় রাখছেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত তিন সপ্তাহে জেট জ্বালানির দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে, যা বিমান সংস্থাগুলির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বর্তমান এই উচ্চমূল্য যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের বছরে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত খরচ হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
ইতোমধ্যে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম যুদ্ধ শুরুর আগে প্রায় ৭০ ডলার থেকে বেড়ে এ সপ্তাহে ১১৯ দশমিক ৫০ ডলার পর্যন্ত উঠেছে, যা বাজারের অস্থিরতা নির্দেশ করে। কিরবি বলেন, "এটি হয়তো সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি নাও হতে পারে, কিন্তু আমরা সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছি। কারণ, এ ধরনের ঝুঁকির জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত থাকাই যুক্তিযুক্ত।"
তেলের দাম দ্রুত কমার সম্ভাবনা কম
স্কট কিরবি আরও ইঙ্গিত দেন যে, তেলের দাম দ্রুত কমে ১০০ ডলারের নিচে নামার সম্ভাবনা কম। তিনি মনে করেন, অন্তত আগামী বছরের শেষ পর্যন্ত বাজার চাপে থাকতে পারে, যা জ্বালানি খাতের উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স তাদের অপারেশনাল কৌশল পুনর্বিবেচনা করছে এবং সম্ভাব্য খরচ বৃদ্ধি মোকাবিলার জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতা শুধু বিমান সংস্থাগুলিকেই নয়, বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের এই প্রস্তুতি অন্যান্য কোম্পানিগুলির জন্যও একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে।



