ঈদের আগে ঢাকার ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের অবস্থা
ঈদের আগের দিন শুক্রবার ঢাকার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের জন্য আগের মতো দীর্ঘ লাইন দেখা যায়নি। বেশিরভাগ স্থানে ক্রেতারা স্বাচ্ছন্দ্যে তেল সংগ্রহ করতে পারছিলেন, তবে কিছু ফিলিং স্টেশনে ডিপো থেকে সরবরাহ কম থাকায় রেশনিং পদ্ধতি অব্যাহত রয়েছে।
রাজারবাগ ফিলিং স্টেশনে সীমিত সরবরাহ
সকাল ১০টার সময় রাজারবাগ ফিলিং স্টেশনে প্রতিটি মোটরসাইকেলে ৫০০ টাকার করে তেল দেওয়া হচ্ছিল। সাকিব নামে এক মোটরসাইকেলচালক তেল বাড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ করলেও, কর্মচারী মোফাজ্জল হোসেন তাঁকে ৫০০ টাকার বেশি দেওয়া যাবে না বলে জানান। মোফাজ্জল হোসেন ব্যাখ্যা করেন, জরুরি গাড়িগুলোয় চাহিদামতো তেল দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু দীর্ঘ পথ যাত্রার জন্য মোটরসাইকেলচালকদের ট্যাংকি ভরে দেওয়া হলেও ডিপো থেকে সরবরাহ কম থাকায় সাধারণত কম করে দেওয়া হচ্ছে।
আসাদগেট ও আরামবাগে স্বাভাবিক অবস্থা
ঢাকার আসাদগেটে ফিলিং স্টেশনে সকালে গাড়িগুলো চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল কিনতে পারছিল। আরামবাগ মোড়ের মেসার্স এইচ কে ফিলিং স্টেশনে অল্প কয়েকটি মোটরসাইকেল লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিচ্ছিল। এই ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী মো. রাকিব হোসেন জানান, গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী তেল দেওয়া হচ্ছে।
মতিঝিলের ফিলিং স্টেশন বন্ধ
মতিঝিলের কারিম অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশন সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের সময় বন্ধ ছিল। ফিলিং স্টেশনটির মালিক আবদুস সালাম বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতেই তেল শেষ হয়ে গেছে। ডিপো থেকে অল্প তেল দেওয়া হয়, যা দিয়ে বেশিক্ষণ চলে না। আজ তেল আনতে ডিপোতে গাড়ি গেছে, আসার পর বিক্রি শুরু করা হবে।
দৈনিক বাংলা মোড়ে স্বস্তির পরিবেশ
দৈনিক বাংলা মোড়ের বিনিময় ফিলিং স্টেশনে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তেলের জন্য যানবাহনের তেমন চাপ ছিল না। কর্মচারী মো. মোস্তফা জানান, গ্রাহকদের চাহিদার আলোকে তেল দেওয়া হচ্ছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত ও পটভূমি
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজার অস্থির হয়ে উঠলে, দেশে সংকট এড়াতে সরকার কেনার সীমা বেঁধে দিয়েছিল। এরপর ফিলিং স্টেশনগুলোয় প্রায় ২৪ ঘণ্টা গাড়ির লাইন দেখা দিয়েছিল। ঈদের আগে ১৬ মার্চ সেই সীমা তুলে নেওয়া হয়। তবে কিছু ফিলিং স্টেশনে সরবরাহ কম থাকায় রেশনিং পদ্ধতি চালু রাখা হয়েছে।
ঈদের আগের দিন ঢাকার সড়কে গাড়ির চাপ কম ছিল, যা ফিলিং স্টেশনগুলোর চাপ হ্রাসে ভূমিকা রেখেছে। তবে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বণ্টন ব্যবস্থা এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।



