মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মাঝে বাংলাদেশের জরুরি ডিজেল সংগ্রহ
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এপ্রিল মাসের চাহিদা পূরণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটি সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিএপিএম) ৩ লাখ টন ডিজেল সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে নিয়মিত সরবরাহকারীরা পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)কে জরুরি ভিত্তিতে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়া শুরু করার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে।
দুই আন্তর্জাতিক কোম্পানির মাধ্যমে সরবরাহ
ডিজেল সরবরাহের জন্য দু’টি আন্তর্জাতিক কোম্পানি যুক্ত থাকবে। দুবাই ভিত্তিক পেট্রোগ্যাস ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন ১ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক এঅ্যান্ডএ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানি ২ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের দায়িত্ব পেয়েছে। প্রথম চালান আগামী ২৭ মার্চের মধ্যে বাংলাদেশের বন্দরে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে। এই জরুরি পদক্ষেপের মাধ্যমে এপ্রিল মাসে দেশের পরিবহন, কৃষি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ডিজেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জ্বালানি সচিবের ব্যাখ্যা ও মূল্য বিবরণ
জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বলেন, “এপ্রিল মাসে দেশের পরিবহন, কৃষি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ডিজেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি এই অস্থির পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হয়েছে।” মূল্য সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি জানান, এঅ্যান্ডএ অয়েল অ্যান্ড গ্যাসের অফার প্রতি ব্যারেল ৭৫ ডলারের স্থির দামের, যা আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান দামের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। তবে তিনি স্বীকার করেন যে সরবরাহকারীর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে কিছু উদ্বেগ আছে, বিশেষ করে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে লজিস্টিক জটিলতার কারণে।
সরবরাহের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ
জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন-১) এ কে এম ফজলুল হক বলেন, “সরবরাহের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরাসরি ক্রয় ছাড়া বিকল্প নেই। আমাদের লক্ষ্য কোনো প্রিমিয়াম ছাড়াই নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা।” বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাংলাদেশ এই ঝুঁকি কমাতে আন্তর্জাতিক সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অবলম্বন করছে। এই সিদ্ধান্তটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষায় একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশের এই জরুরি ডিজেল সংগ্রহ পরিকল্পনা দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। সরকারের এই দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
