মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে এশিয়ায় জ্বালানি সংকট: শ্রীলঙ্কা-মিয়ানমারসহ দেশগুলোর কঠোর পদক্ষেপ
এশিয়ায় জ্বালানি সংকটে শ্রীলঙ্কা-মিয়ানমারের কঠোর পদক্ষেপ

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে এশিয়ায় জ্বালানি সংকটের তীব্রতা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাব এখন সরাসরি আঘাত হানছে এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনীতিতে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় এই অঞ্চলে দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। গত বছর হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রবাহিত তেল ও গ্যাসের প্রায় ৯০ শতাংশই এশিয়ার দেশগুলোর জন্য নির্ধারিত ছিল, যা এই অঞ্চলকে বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক হিসেবে চিহ্নিত করে।

শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমারের জরুরি পদক্ষেপ

জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে শ্রীলঙ্কা প্রতি বুধবারকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। দেশটির পেট্রোল স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ‘ন্যাশনাল ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে নাগরিকদের জন্য জ্বালানি ক্রয়ের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

একইভাবে মিয়ানমারেও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সেখানে লাইসেন্স প্লেটের নম্বরের ওপর ভিত্তি করে একদিন অন্তর গাড়ি চালানোর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, যা যানবাহনের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করার একটি কৌশল হিসেবে কাজ করছে।

বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশে জ্বালানি সাশ্রয় করতে পরিকল্পিত লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের রমজানের ছুটি এগিয়ে আনা হয়েছে। এই পদক্ষেপ শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে ফিলিপাইনে সরকারি অফিসের কর্মীদের জন্য সপ্তাহে অন্তত একদিন বাসা থেকে কাজ করা বা ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নীতি অফিসে যাতায়াতের জন্য জ্বালানি খরচ কমানোর পাশাপাশি কর্মীদের সুবিধাও নিশ্চিত করছে।

অর্থনৈতিক কৌশল হিসেবে সমন্বিত প্রচেষ্টা

এশিয়ার দেশগুলোর এমন সমন্বিত প্রচেষ্টা মূলত বিশ্ববাজারের জ্বালানি অনিশ্চয়তা থেকে নিজেদের অর্থনীতিকে রক্ষা করার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে ইরানের যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিভিন্ন দেশে শুরু হয়েছে কৃচ্ছ্রসাধন, যা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হতে পারে।

এই সংকট মোকাবিলায় দেশগুলো তাদের নীতিগুলো ক্রমাগত পর্যালোচনা করছে এবং প্রয়োজনে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বিকল্প জ্বালানি উৎসের দিকে নজর দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।