রাজধানীর ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের সংকট: গ্রাহকদের ভোগান্তি অব্যাহত
রাজধানীর ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সংকটে ভোগান্তি

রাজধানীর ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের সংকট: গ্রাহকদের ভোগান্তি অব্যাহত

রাজধানীর রাজারবাগ ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল নিতে আসা গ্রাহকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। গতকাল সোমবার দুপুরে মোটরসাইকেলচালক মো. বাবুল হোসেন বলেন, 'প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছি। পাম্পের কাছাকাছি এসে জানতে পারি, মাত্র ২০০ টাকার তেল দিচ্ছে। এটা তো হয় না।' তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ অপেক্ষার পরও চাহিদামতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না।

রেশনিং তুলে দেওয়ার পরও সংকট

গত রোববার সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিং পদ্ধতি তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু গতকাল সোমবার রাজধানীর বেশ কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, কিছু পাম্পে গ্রাহককে এখনো চাহিদামতো তেল দেওয়া হচ্ছে না। বিক্রেতারা বলছেন, ডিপো থেকে তাঁরা চাহিদানুযায়ী তেল পাচ্ছেন না।

বেলা একটার দিকে রাজারবাগ ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, তেল দেওয়া নিয়ে কর্মচারীদের সঙ্গে মোটরসাইকেলচালকদের তর্কবিতর্ক চলছে। চালকেরা নিজেদের চাহিদামতো তেল চাইছেন, কিন্তু কর্মচারীরা জানিয়ে দেন, ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া সম্ভব নয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনের অবস্থা

ভুক্তভোগী মোটরসাইকেলচালক মো. বাবুল হোসেন জানান, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তিনি তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। দীর্ঘ সময় পর পাম্পের কাছাকাছি এসে জানতে পারেন, ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। এ নিয়েই চালকদের সঙ্গে বিক্রেতাদের বচসা হচ্ছে।

অন্য ফিলিং স্টেশনগুলো চাহিদামতো তেল দিলেও তাঁরা কেন দিচ্ছেন না—এমন প্রশ্নের জবাবে রাজারবাগ ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, 'আমরা তো তেল পাই না, কীভাবে আনলিমিটেড দেব? ডিপো থেকে চাহিদামতো তেল পাচ্ছি না। সে জন্যই সবাইকে কম কম করে দিচ্ছি।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বেলা দেড়টায় দৈনিক বাংলার মোড়ে 'বিনিময় ফিলিং স্টেশনে' গিয়ে দেখা যায়, সেখানে তেল নেই। পাম্পের কর্মচারী মো. সাগর জানান, দুপুর ১২টাতেই তাঁদের তেল শেষ হয়ে গেছে। গ্রাহকদের কত লিটার করে দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আগের মতোই মোটরসাইকেলে ৫ লিটার ও প্রাইভেট কারে ১০ লিটার করে দিয়েছি।' রেশনিং পদ্ধতি তুলে নেওয়ার বিষয়ে এই কর্মচারী জানান, ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় গ্রাহকদেরও তাঁরা চাহিদামতো তেল দিতে পারছেন না।

কিছু ফিলিং স্টেশনে স্বাভাবিক অবস্থা

তবে মতিঝিলের কারিম অ্যান্ড সন্স, মৎস্য ভবন মোড়ের রমনা ফিলিং স্টেশন এবং পরিবাগের মেঘনা মডেল সার্ভিসিং সেন্টার ফিলিং স্টেশনে গ্রাহকদের চাহিদামতোই তেল দিতে দেখা যায়।

তেল না থাকায় দৈনিক বাংলা মোড়ের বিনিময় ফিলিং স্টেশনে গ্রাহকদের কোনো ভিড় নেই, অলস সময় পার করছেন পাম্পের কর্মীরা।

ডিপো থেকে চাহিদামতো তেল না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন কারিম অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনের মালিক আবদুস সালামও। তিনি বলেন, 'আমরা তো ডিপো থেকে চাহিদামতো তেল পাচ্ছি না। যতটুকু পেয়েছি, তা অনেক কম। এরপরও সবাইকে আনলিমিটেড তেল দিচ্ছি। তবে মনে হচ্ছে, সন্ধ্যার আগেই এই তেল শেষ হয়ে যাবে। তখন আর বিক্রির সুযোগ থাকবে না।'

এই সংকটের ফলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, যা দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে।