বিশ্ববাজারে অস্থিরতায় এলএনজি আমদানি: সরকার তিন কার্গো কেনার অনুমোদন দিল
বিশ্ববাজারে অস্থিরতায় এলএনজি আমদানি: তিন কার্গো কেনার অনুমোদন

বিশ্ববাজারে অস্থিরতায় এলএনজি আমদানি: সরকার তিন কার্গো কেনার অনুমোদন দিল

বিশ্ববাজারে অস্থিরতা ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশকে আগের তুলনায় বেশি দামে স্পট মার্কেট থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করতে হচ্ছে। এই চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে সরকার আরও তিন কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দিয়েছে, যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা

সরকারি সিদ্ধান্ত ও ক্রয় প্রক্রিয়া

বুধবার (১০ মার্চ) ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের একটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এই ক্রয় পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ১০৫(৩)(ক) অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে তিন ধাপে এসব কার্গো দেশে আসবে:

  • প্রথম কার্গো: ৫ ও ৬ এপ্রিলের মধ্যে সরবরাহ
  • দ্বিতীয় কার্গো: ৯ ও ১০ এপ্রিলের মধ্যে সরবরাহ
  • তৃতীয় কার্গো: ১২ ও ১৩ এপ্রিলের মধ্যে সরবরাহ

কার্গোর উৎস ও মূল্য নির্ধারণ

প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যভিত্তিক টোটাল এনার্জিস থেকে একটি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পস্কো ইন্টারন্যাশনাল থেকে দুটি কার্গো এলএনজি কেনা হবে। মূল্য নির্ধারণে:

  • টোটাল এনার্জিসের কার্গোর দাম প্রতি এমএমবিটিইউ ২১.৫৮ মার্কিন ডলার
  • পস্কোর দুটি কার্গোর দাম প্রতি এমএমবিটিইউ ২০.৭৬ মার্কিন ডলার

এই ক্রয়ে টোটাল এনার্জিসের একটি কার্গো কিনতে ব্যয় হবে প্রায় ৯০৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, এবং পস্কো ইন্টারন্যাশনালের প্রতিটি কার্গোর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮৭৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা করে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের বক্তব্য

এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান এরফানুল হক বলেন, "দ্রুত এলএনজি সংগ্রহের জন্য স্পট মার্কেট ব্যবহার করা হচ্ছে। এর আগে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হলেও কোনও দরদাতা অংশ নেয়নি। পরে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে কয়েকটি চালান নিশ্চিত করা হয়েছে।"

দেশের গ্যাস সরবরাহ ও ঘাটতি পরিস্থিতি

বর্তমানে দেশের গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হয়, এবং এলএনজি থেকে যোগ হয় আরও ৯০ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট। একটি এলএনজি কার্গো দেরি হলেই গ্যাস ঘাটতি দেখা দেয়, যা বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতকে প্রভাবিত করে।

এ পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যে সরকার বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানায় গ্যাস রেশনিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।