রাজধানীতে জ্বালানি সংকট: পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন, ভোক্তাদের ভোগান্তি
রাজধানীতে জ্বালানি সংকট: পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন

রাজধানীতে জ্বালানি সংকট: পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন, ভোক্তাদের ভোগান্তি

সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি সংকট নেই বলে দাবি করা হলেও রাজধানীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেল ও গাড়ির দীর্ঘ লাইন চোখে পড়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) অনেক পাম্পে পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ বন্ধ থাকায় শতাধিক ভোক্তা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে, যা একটি উল্লেখযোগ্য ভোগান্তির সৃষ্টি করেছে।

সরেজমিনে ভোগান্তির চিত্র

সরেজমিনে মৎস্যভবন থেকে আসাদগেট পর্যন্ত বিভিন্ন পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ চালক এবং রাইডশেয়ারিংয়ের চালকদের ভোগান্তির মুখোমুখি হতে দেখা গেছে। বুধবার বিকাল চারটার দিকে মৎস্যভবনের কাছে রমনা পেট্রোল পাম্পে তেল সরবরাহ বন্ধ রেখে মেরামত কাজ করতে দেখা যায়। আগের দিন মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ইফতারের পর এই পাম্পে তেল নিতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন আইনজীবী ইমরান এবং নারায়ণগঞ্জের মাসুম নামের এক ব্যক্তি। প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর মাসুম ২৫০ টাকার তেল নিয়ে নারায়ণগঞ্জে ফিরে যান। আর আইনজীবী ইমরান বিরক্ত হয়ে তেল না নিয়েই বাসায় ফিরে যান।

ইমরান জানান, রাজারবাগের একটি পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখে তিনি মৎস্যভবনের কাছে রমনা পেট্রোল পাম্পে এসেছিলেন। কিন্তু সেখানেও তেল পাননি, যা তার দৈনন্দিন কাজে বাধা সৃষ্টি করেছে।

অন্যান্য এলাকার অবস্থা

বুধবার সাকুরা রেস্টুরেন্টের পাশে মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টার নামের একটি পেট্রোল পাম্পে এক ঘণ্টার বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন মিরপুরের মামুন হোসেন। তিনি বলেন, “এক ঘণ্টার বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এখনও তেল পেতে আরও প্রায় এক ঘণ্টা লাগতে পারে।” এই দীর্ঘ অপেক্ষা তার সময় ও শক্তির অপচয় ঘটিয়েছে।

মোটরসাইকেল রাইডশেয়ার চালক শেখ ওমর আলী জানান, আসরের আজানের সময় তিনি পাঁচ লিটার অকটেন পেয়েছেন। তিনি বলেন, “প্রায় এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর পাঁচ লিটার তেল পেয়েছি।” যদিও তিনি তেল পেয়েছেন, তবুও এই প্রক্রিয়া তার আয়ের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

পাম্পের কর্মচারীদের বক্তব্য

মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টারের এক কর্মচারী তেল দেওয়ার সময় জানান, ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলের জন্য দুই লিটার করে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও তারা প্রায় ৩০০ টাকার তেল দিচ্ছেন। আর যারা রাইডশেয়ার চালান, তারা পাঁচ লিটার পর্যন্ত তেল পাচ্ছেন। এই সীমাবদ্ধতা ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ বৃদ্ধি করেছে।

মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টারের পাশেই পরিবাগের সিএনজি পাম্প পূর্বাচল ট্রেডার্স বন্ধ রয়েছে। পাম্পের কর্মচারী খসরু জানান, বর্তমানে তেল নেই। রাতে তেল সরবরাহ পাওয়া গেলে আবার বিক্রি শুরু হবে। তখন মোটরসাইকেলের জন্য ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হবে, যা একটি আশার আলো হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

রাজধানীর অন্যান্য এলাকার পরিস্থিতি

এর আগে দুপুরে রাজধানীর আসাদগেট এলাকায় একটি পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। আসাদ অ্যাভিনিউতে আনসার অফিস পর্যন্ত ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন ছিল। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, অনেক পাম্পেই পেট্রোল ও অকটেন নেই। পাম্পের কর্মচারীরা জানিয়েছেন, রাতের মধ্যে তেল সরবরাহ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভোক্তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর।

বিপিসির পদক্ষেপ

এদিকে চলমান পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অকটেন ও পেট্রোলের সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। বুধবার বিপিসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। তবে দিনভর পেট্রোল ও অকটেনের জন্য মোটরসাইকেল চালকদের ভোগান্তিতে পড়তে দেখা গেছে, যা এই পদক্ষেপের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

সর্বোপরি, সরকারের দাবি সত্ত্বেও রাজধানীতে জ্বালানি সংকটের প্রমাণ মিলছে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করছে। ভোক্তারা আশা করছেন, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে এবং তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।