মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশের ভারতের কাছে অতিরিক্ত সহায়তা চাওয়া
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে অতিরিক্ত জ্বালানি সহায়তা চেয়েছে। এ বিষয়ে ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।
আনুষ্ঠানিক চিঠি প্রদান ও ভারতের প্রতিক্রিয়া
বুধবার (১১ মার্চ) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সঙ্গে বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে প্রণয় ভার্মা এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে অতিরিক্ত সরবরাহের অনুরোধসংবলিত চিঠি পেয়েছি। এটি গ্রহণ করেছি এবং দ্রুত বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেবো।”
বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিদ্যমান সহযোগিতা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানান ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে শক্তিশালী সংযোগ রয়েছে এবং এটি দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতা জোরদার করার উদ্যোগ
প্রণয় ভার্মা আরও বলেন, “বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ও জ্বালানি পাইপলাইন চালু রয়েছে। এই সহযোগিতা কীভাবে আরও জোরদার করা যায়, সে বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।”
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যা বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগটি জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো হলো:
- আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন
- জ্বালানি পাইপলাইন প্রকল্প
- শক্তি খাতে যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ
- প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়
এই আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কয়েকটি বিষয় উত্থাপন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও।
