বরগুনার পাথরঘাটায় জ্বালানি তেল সংকট: গভীর সমুদ্রে যেতে পারছেন না হাজার হাজার জেলে
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে গভীর সমুদ্রে যেতে পারছেন না শত শত ট্রলারের হাজার হাজার জেলে। ঈদের আগমুহূর্তে এই সংকটে উপকূলীয় এলাকায় চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি তেলের অভাবে বহু ট্রলার ঘাটে আটকে আছে। একই সঙ্গে অকটেন ও পেট্রোল সংকটের কারণে ব্যক্তিগত ও ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে।
অসাধু ব্যবসায়ীদের মজুদদারির অভিযোগ
অনেকের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার অজুহাতে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। স্থানীয় জেলে ও সচেতন মহলের দাবি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরান–ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। তবে অনেকের মতে, দেশে তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি দামে বিক্রির আশায় তেল গোপনে মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন।
ঈদ উদযাপনে হুমকি
ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। প্রতি বছর ঈদের আগে গভীর সমুদ্রে মাছ শিকার করে সেই আয়ে পরিবার নিয়ে ঈদ উদযাপন করেন জেলেরা এবং রেন্ট-এ মোটরসাইকেল চালকেরা। কিন্তু এ বছর জ্বালানি তেলের সংকটে তাদের সেই আশা ভেঙে যেতে বসেছে। স্থানীয় জেলে জাকির বিশ্বাস বলেন, “দোকানগুলোতে তেল মজুদ আছে, কিন্তু আমরা কিনতে চাইলে বলে তেল নেই। তাই সাগরে যেতে পারছি না। ভেবেছিলাম ঈদের আগে মাছ ধরে ভালো টাকা পাবো এবং পরিবার নিয়ে ঈদ করবো। কিন্তু মনে হচ্ছে এ বছর সেই আশা পূরণ হবে না।”
সমিতি সভাপতির বক্তব্য
বিষয়টি নিশ্চিত করে বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতি–এর সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, পাথরঘাটার বিভিন্ন জ্বালানি তেলের দোকানে পর্যাপ্ত তেল থাকা সত্ত্বেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাড়তি দামের আশায় তেল গোপনে মজুদ করে রেখেছে। ফলে সমুদ্রগামী ট্রলারগুলো প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পেয়ে ঘাটে বসে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অনেক ট্রলার ইতোমধ্যে সমুদ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বাজার-সদাইসহ সব ব্যবস্থা সম্পন্ন করে ঘাটে অপেক্ষা করছে। কিন্তু জ্বালানি তেল না পাওয়ায় তারা গভীর সমুদ্রে যেতে পারছে না। এতে জেলে, আড়তদার ও ট্রলার মালিকদের লাখ লাখ টাকার ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে তাছলিমা আক্তার, জেলা প্রশাসক, বরগুনা বলেন, যদি কোনো অসাধু ব্যবসায়ী জ্বালানি তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে, তবে তাদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপকূলের জেলেদের দাবি, দ্রুত জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট দূর করে বাজারে স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে ঈদের আগমুহূর্তে হাজারো জেলে পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়বে।
এই সংকটের প্রভাব শুধু জেলেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে মাছের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া, মোটরসাইকেল চালকদেরও যাতায়াতে সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে, যা পুরো এলাকার দৈনন্দিন জীবনে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।
