জ্বালানি সংকটে রাজধানীতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি, মোটরসাইকেল চালকদের ভোগান্তি
সরকারিভাবে জ্বালানি তেল বিক্রি সীমিত করার পর রাজধানী ঢাকায় যানবাহন চালকদের মধ্যে ব্যাপক ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। আজ বুধবার সকালে বিজয় সরণিসংলগ্ন ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনের সামনে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেল নেওয়ার জন্য।
মোটরসাইকেল চালকদের দুর্ভোগ
সফটওয়্যার প্রকৌশলী কাজী মোসাব্বির হোসেনের মতো অনেকেই এই ভোগান্তি এড়াতে মোটরসাইকেল বের না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। মোসাব্বির বলেন, "সময় ব্যয় করে এত কষ্ট করে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নেওয়া এড়াতেই মোটরসাইকেল বের না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু আমার অভ্যাস হয়ে গেছে মোটরসাইকেলে যাতায়াতের। তাই বাসে চড়ে যেতে কষ্ট হচ্ছিল।" তিনি আজ বাধ্য হয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছেন এবং এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর তেল পেয়েছেন।
যানবাহনের সারির দৈর্ঘ্য
সকাল ১০টার দিকে ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন থেকে ব্যক্তিগত যানবাহনের সারি দেড় কিলোমিটার দূরের ঢাকা সেনানিবাসের জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। অন্যদিকে, মোটরসাইকেলের সারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রধান ফটক পর্যন্ত দেখা গেছে। শাহবাগ এলাকার মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টার পাম্পেও একই দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়, যেখানে প্রাইভেট কারের সারি কাঁটাবন মোড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।
পাম্প কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনের শিফট ইনচার্জ মো. জসিম উদ্দিন জানান, তাঁদের এখানে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই, তবে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সীমিত পরিমাণে তেল দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, "আজ থেকে মোটরসাইকেলে অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারের চালকদের জন্য ৫ লিটার করে তেল দেওয়া হচ্ছে। ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল চালকেরা পাচ্ছেন তিন লিটার তেল। এ ছাড়া যানবাহনের ধরনভেদে প্রাইভেট কার ও অন্যান্য যানবাহনের জন্য ১০ থেকে ২৫ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে।"
চালকদের অভিযোগ
রাইড শেয়ারের মোটরসাইকেল চালক মোহাম্মদ সাহেব অভিযোগ করেন, "দুই লিটার তেল দিয়ে ঢাকায় মাত্র চার থেকে পাঁচটি ট্রিপ দেওয়া যায়। খরচ বাদে এসব ট্রিপ থেকে আয় থাকে সর্বোচ্চ ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। এরপর যদি আবার তেলের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হয়, তখন তো দেড় থেকে দুই ঘণ্টা চলে যায়। তাহলে আয়-রোজগার কেমনে করমু?" ব্যক্তিগত গাড়ির চালক আবুল কালামও প্রায় দেড় ঘণ্টা সারিতে অপেক্ষার পর তেল পেয়েছেন বলে জানান।
অন্যান্য পাম্পের অবস্থা
বেলা ১১টার দিকে তেজগাঁও শিল্প এলাকার সিটি ফিলিং স্টেশন পাম্পে ডিজেল ও অকটেন বিক্রি বন্ধ দেখা যায়, শুধু সিএনজির গ্যাস বিক্রি হচ্ছিল। প্রকৌশলী মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক প্রায় ২২ হাজার লিটার অকটেন ও ১৮ হাজার লিটার ডিজেল লাগে, কিন্তু গতকাল কম সরবরাহ পাওয়ায় তেল ফুরিয়ে গেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আজ ডিজেল ১৩ হাজার লিটার পেলে বিক্রি শুরু করা যাবে।
এই পরিস্থিতিতে রাজধানীবাসীর দৈনন্দিন যাতায়াত ও জীবিকা নির্বাহে ব্যাপক সমস্যা দেখা দিচ্ছে, যা জ্বালানি সংকটের তীব্রতা নির্দেশ করে।
