সিলেটে জ্বালানি তেল সরবরাহে নতুন সংকট: ফিলিং স্টেশন মালিকদের ডিপো বর্জনের ঘোষণা
সিলেট বিভাগে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন করে সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফিলিং স্টেশনের মালিকরা ডিপো থেকে তেল নেওয়া বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন, যা যানবাহন ও মোটরসাইকেল আরোহীদের জন্য ভোগান্তির কারণ হতে পারে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) রেশনিং এবং দৈনিক ক্রয়সীমা নির্ধারণের নীতিমালাকে ত্রুটিপূর্ণ দাবি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য
মঙ্গলবার বিকেলে সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর, এজেন্ট ও পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বিভাগীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রিয়াশদ আজিম বলেন, "ফিলিং স্টেশনগুলোতে বর্তমানে যে পরিমাণ তেল মজুদ আছে, তা বিক্রির পর ডিপো থেকে আর তেল উত্তোলন করা হবে না।" তিনি উল্লেখ করেন যে, সিলেট বিভাগে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ লাখ লিটার ডিজেল, দুই লাখ লিটার পেট্রল এবং প্রায় দেড় লাখ লিটার অকটেনের চাহিদা রয়েছে।
নীতিমালার ত্রুটি ও সরবরাহ সমস্যা
রিয়াশদ আজিম আরও ব্যাখ্যা করেন যে, ডিপোগুলোতে পেট্রল ও অকটেনের ঘাটতি না থাকলেও পাম্পগুলোতে মাত্র এক লাখ লিটার তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, "পাম্পে তেল পরিবহনের গাড়িগুলোর ধারণক্ষমতা ৯ হাজার লিটার, কিন্তু মাত্র ৫০০ লিটার তেল দিয়ে বহন কাজে ব্যবহার করলে গাড়ির খরচ উঠবে না।" এছাড়া, তিনি দাবি করেন যে সিলেটের গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রাপ্ত কনডেনসেট পরিশোধন করে পেট্রল ও অকটেন উৎপাদন হয়, যা হরমুজ প্রণালির সাথে সম্পর্কিত নয়।
ধর্মঘট ও দাবি-দাওয়া
এর আগে, সোমবার সন্ধ্যায় সিলেটে একটি ফিলিং স্টেশনের কর্মীকে হামলার প্রতিবাদে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার বেলা দুইটা পর্যন্ত ধর্মঘট পালন করা হয়েছিল। ধর্মঘটে ৫ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে:
- পেট্রলপাম্প কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ
- হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার
- বিপিসির অযৌক্তিক দৈনিক কোটাপদ্ধতি প্রত্যাহার
- স্বাভাবিক জ্বালানি বিপণনব্যবস্থা পুনর্বহাল
- সিলেটে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ
ভবিষ্যত পরিণতি
রিয়াশদ আজিম সতর্ক করে দেন যে, যদি বিপিসির বর্তমান নীতিমালা অব্যাহত থাকে, তাহলে পাম্পগুলোর মজুদ তেল শেষ হয়ে গেলে আর সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, "পাম্পের মালিকেরা নিজেদের ক্ষতি দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করবেন না।" পাশাপাশি, তিনি সিলেটে কোথাও বাড়তি মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রি করলে সংগঠনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সহসভাপতি সিরাজুল হোসেন আহমদ এবং সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে সিলেট অঞ্চলে জ্বালানি তেলের সরবরাহে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
