ভারত থেকে আসছে ৫ হাজার টন ডিজেল: মৈত্রী পাইপলাইনে সরবরাহ শুরু
ভারত থেকে ৫ হাজার টন ডিজেল আসছে, পাইপলাইনে সরবরাহ

ভারত থেকে বাংলাদেশে ৫ হাজার টন ডিজেল আসছে: মৈত্রী পাইপলাইনে সরবরাহ শুরু

বাংলাদেশ পেট্রলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, ভারতের আসাম রাজ্যের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে বাংলাদেশে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসছে। এই জ্বালানি তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) দেশে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে। মূলত ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে সৃষ্ট তীব্র জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে এই সরবরাহ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

পাম্পিং কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য

বিপিসির বাণিজ্য ও অপারেশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ জানিয়েছেন, সোমবার দুপুর ৩টা ২০ মিনিট থেকে ডিজেল পাম্পিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১১৩ মেট্রিক টন হারে পাম্পিং চললে, বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে এই বিপুল পরিমাণ ডিজেলের সরবরাহ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ডিজেল সরাসরি দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছাবে, যা বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিবহন করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের গুরুত্ব

বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনটি ভারতের শিলিগুড়ি মার্কেটিং টার্মিনাল থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুর পর্যন্ত প্রায় ১৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ। এই পাইপলাইনটি ২০২৩ সালের মার্চ মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছিল এবং এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সরাসরি পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে। এর আগে ২০১৬ সাল থেকে রেল ওয়াগনের মাধ্যমে ভারত থেকে ডিজেল আনা হলেও, পাইপলাইন চালু হওয়ার পর থেকে পরিবহন সময় ও ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে, যা জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ করে তুলেছে।

জ্বালানি চাহিদার বর্তমান পরিস্থিতি

বাংলাদেশে বর্তমানে দৈনিক ডিজেলের স্বাভাবিক চাহিদা ১২ থেকে ১৩ হাজার মেট্রিক টন, যা দেশের সামগ্রিক জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায়, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই চাহিদা হঠাৎ বেড়ে ২০ হাজার মেট্রিক টনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই সংকট মোকাবিলায় ভারত থেকে ডিজেল আমদানি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।

এই সরবরাহ প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং ভবিষ্যতের চাহিদা মেটাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন। বিপিসির কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, পাইপলাইনের মাধ্যমে নিয়মিত সরবরাহ চালু থাকলে দেশের জ্বালানি সংকট দ্রুত কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে।