রোববার থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু হবে
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ঘোষণা দিয়েছেন যে, আগামী রোববার থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি করা হবে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে দীর্ঘমেয়াদে দেশে জ্বালানির সংকট যাতে না হয়, সেজন্য। প্রতিমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে লিখিত নির্দেশনা শীঘ্রই ফিলিং স্টেশনগুলোকে দেওয়া হবে।
রাজধানীতে পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন
শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর পরীবাগ এলাকার একটি পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন শেষে তিনি এই ঘোষণা দেন। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, "বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। তাই আমরা রেশনিং পদ্ধতি চালু করতে যাচ্ছি, যাতে সাধারণ মানুষের জন্য জ্বালানি সহজলভ্য থাকে।"
বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের প্রভাব
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর ত্রিমুখী যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এই সংকটের প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশে পড়তে শুরু করেছে। রাজধানীজুড়ে জ্বালানি সংকটের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে:
- পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের জন্য ব্যাপক ভিড় দেখা যাচ্ছে।
- লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে তর্কবিতর্ক ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটছে কিছু স্টেশনে।
- অনেকে অতিরিক্ত জ্বালানি সংরক্ষণ করার চেষ্টা করছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
রেশনিং পদ্ধতির লক্ষ্য ও প্রক্রিয়া
রেশনিং পদ্ধতি চালু করার মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য হলো জ্বালানির ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করা এবং সংকট মোকাবিলা করা। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, "এই পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াবে এবং অপ্রয়োজনীয় জমা করা রোধ করবে।" ফিলিং স্টেশনগুলোকে দেওয়া নির্দেশনায় রেশনিংয়ের বিস্তারিত প্রক্রিয়া ও নিয়মাবলি উল্লেখ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। সরকার আশা করছে, রেশনিং পদ্ধতি চালু হলে এই সংকট ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং জ্বালানি তেলের সহজলভ্যতা বাড়বে।



