মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কায় ঢাকার পাম্পে ভিড়
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট বা দাম বাড়তে পারে— এমন আশঙ্কায় রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে ভিড় করছেন ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের চালকরা। বৃহস্পতিবারের মতো শুক্রবারও (৬ মার্চ) ঢাকার বিভিন্ন পাম্পে তেল নিতে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও বিক্রি দ্বিগুণ বৃদ্ধি
সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক জায়গায় তেল নিতে অপেক্ষমাণ গাড়ির সারি পাম্পের সীমানা ছাড়িয়ে মূল সড়ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা পাম্পগুলোর উপর চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানান, গুজব বা আশঙ্কার কারণে অনেকেই অতিরিক্ত তেল নিচ্ছেন, ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এই পরিস্থিতি জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও দাম নিয়ে জনমনে উদ্বেগের প্রতিফলন হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
সরকারের পদক্ষেপ ও মন্ত্রীর মাঠ পর্যবেক্ষণ
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো বা সরবরাহ কমানোর বিষয়ে কোনও নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। এদিকে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মাঠে নামছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। জ্বালানি তেল নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতির মধ্যে শুক্রবার বিকাল ৫টায় কারওয়ান বাজারে পেট্রোবাংলা কার্যালয়ের সামনে থেকে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে পেট্রোল পাম্প পরিদর্শনে বের হবেন। এই পদক্ষেপটি সরকারের সচেতনতা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলছে, যা বাংলাদেশেও প্রতিফলিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের পরিস্থিতিতে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো এড়িয়ে সঠিক তথ্য প্রদান ও নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ জরুরি। সরকারের তদারকি ও পর্যবেক্ষণ এই সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।



