যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আবারও বন্ধ হয়ে গেছে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন। চালু হওয়ার মাত্র ১৫ ঘণ্টার মধ্যে আবারও বন্ধ হয়ে যায় কেন্দ্রটির উৎপাদন।
বয়লারের টিউব ফেটে উৎপাদন বন্ধ
বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা জানিয়েছেন, শনিবার বেলা ১১টার দিকে এই কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এটি মেরামত করতে ৪-৫ দিন সময় লাগতে পারে।
পূর্ববর্তী ত্রুটি ও মেরামত
এর আগে বুধবার দিবাগত রাত ১০টা ২ মিনিটে এই ইউনিটের ৪টি কোল মিলের মধ্যে দুটি কোলমিল ভেঙে যায়। এতে ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে মেরামত কাজ সম্পন্ন করে শুক্রবার রাত ৮টা ৭ মিনিটের দিকে কেন্দ্রের উৎপাদন শুরু হয়। উৎপাদন শুরুর পর ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছিল।
সম্পূর্ণ উৎপাদন বন্ধ
এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটের মধ্যে দুটি ইউনিট আগে থেকেই বন্ধ রয়েছে। চালু থাকা একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আবারও এই কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেলো। এই কেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলেও উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে লোডশেডিং এবং লো ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট ও সক্ষমতা
বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিট রয়েছে, যার মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিট ১২৫ মেগাওয়াট করে মোট ২৫০ মেগাওয়াট। আর তৃতীয় ইউনিটটি ২৭৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। আর ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে বন্ধ আছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে একটি ইউনিটের ওপর নির্ভর করেই এই কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন চলছিল।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
তবে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী জানিয়েছেন, আগামী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে চালু হবে ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট। আর দ্বিতীয় ইউনিটটি চালু করতে চীনা কোম্পানির সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের আলোচনা চলছে। এই ইউনিট চালু করার জন্য চার সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। খুব দ্রুতই দ্বিতীয় ইউনিট চালুর ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত আসবে। এই ইউনিট চালু করতে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩ মিলিয়ন ডলার। চীনা কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে যার কম বা বেশি হতে পারে।



