চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে বেসরকারি বিনিয়োগ ২১ দশমিক ৫৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত ১৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জিডিপির সাময়িক হিসাবে এই তথ্য উঠে এসেছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরের পরে জিডিপি-বিনিয়োগ অনুপাত এত কম ছিল না।
বিনিয়োগের চিত্র ও উদ্বেগ
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে চলতি মূল্যে জিডিপির আকার ৬১ লাখ ২০ হাজার ২০৯ কোটি টাকা। মোট সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ হয়েছে ১৭ লাখ ৯ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা, যার মধ্যে বেসরকারি বিনিয়োগ ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৭১২ কোটি টাকা। জিডিপির তুলনায় বেসরকারি-বিনিয়োগের অনুপাত ২১ দশমিক ৫৩ শতাংশ, আর সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগের অনুপাত ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, “জিডিপির অনুপাতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ অংশ কমে যাওয়া বেশ উদ্বেগজনক। কয়েক দশক ধরে বেসরকারি খাত প্রবৃদ্ধির চালিকা শক্তি হিসেবে পরিচিত। এই পরীক্ষিত চালিকা শক্তি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে কার্যকর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার জন্য বিনিয়োগ অপরিহার্য।
জিডিপি-বিনিয়োগ অনুপাতের গুরুত্ব
জিডিপির অনুপাতে বিনিয়োগ একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বোঝায়। এটি উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণ, নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির ভিত্তি মূল্যায়নে ব্যবহৃত হয়। সাধারণত উচ্চ বিনিয়োগ-জিডিপি অনুপাত দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য সহায়ক। তবে বিনিয়োগের গুণগত মান ও উৎপাদনশীলতাও গুরুত্বপূর্ণ।
১৪ বছরের প্রবণতা
বিবিএসের ওয়েবসাইটে ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে জিডিপির হিসাব পাওয়া যায়। ওই বছর জিডিপির অনুপাতে বেসরকারি বিনিয়োগ ছিল ২১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এরপর এটি বেড়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশে পৌঁছায়। এরপর কোভিড-১৯, ইউক্রেন যুদ্ধ, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ক্ষমতার পটপরিবর্তনের কারণে অনুপাত কমতে থাকে। চলতি অর্থবছরে তা ২১ দশমিক ৫৩ শতাংশে নেমে এসেছে।
বিনিয়োগ কমার কারণ
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের মতে, গত কয়েক বছরে বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও বড় অগ্রগতি ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিনিয়োগ সম্মেলন করা হলেও দেড় বছরে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট, উচ্চ কর, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ঋণের উচ্চ সুদের হার বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করছে।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার অর্থনীতি চাঙা করতে আগামী বাজেটে শুল্ক-করছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছে। অর্থমন্ত্রীর প্রত্যাশা—আগামী দুই বছরের মধ্যে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে।



