সবার অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নতুন বাজেট: অর্থমন্ত্রী
সবার অর্থনৈতিক অংশগ্রহণে নতুন বাজেট: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের প্রতিটি মানুষের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে আগামী জাতীয় বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিকে একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে চায় সরকার, পাশাপাশি সমাজের সব স্তরের মানুষ যাতে উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

বাজেটের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘পরবর্তী বাজেট দেশের প্রতিটি মানুষকে বিবেচনায় রেখে দেওয়া হচ্ছে। আমরা বাজেটের মাধ্যমে সবাইকে অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চাই। একইসঙ্গে বাজেটের সুফল যাতে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে চায়, যেখানে উন্নয়নের সুফল কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সমাজের সব শ্রেণি ও পেশার মানুষ এর সুফল ভোগ করবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিভিন্ন খাতের চাহিদা ও সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে বাজেটে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও প্রণোদনা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালীকরণ

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি অতীতে ঋণনির্ভর প্রবৃদ্ধির পথ থেকে সরে এসেছে এবং এখন উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তিনি মন্তব্য করেন, দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।

‘দেশকে ঋণনির্ভরতা থেকে বের করে আনতে হবে। অর্থনীতির টেকসই ভিত্তি গড়ে তুলতে উৎপাদনশীল খাতের সম্প্রসারণ ও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি অপরিহার্য।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্ব

কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান ছাড়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল মানুষের কাছে পৌঁছানো যায় না। তাই নতুন বাজেটে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

চৌধুরী বলেন, সরকার একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে চায় যেখানে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা আস্থার সঙ্গে বিনিয়োগ করতে পারেন। বিনিয়োগ বাড়লে উৎপাদন বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং অর্থনীতির সামগ্রিক গতি আরও শক্তিশালী হবে।

বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতের অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে অর্থনীতি এখনও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। যদিও এসব সমস্যার প্রভাব বিভিন্ন খাতে রয়ে গেছে, তবুও সরকার ক্রমাগত সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের দিকে কাজ করছে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও নতুন বাজেট দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। বিনিয়োগবান্ধব নীতি, উৎপাদনশীল খাতের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।