বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার কমেছে, কিন্তু আয় বৈষম্য বেড়েছে। ২০২২ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮.৭ শতাংশ, যা ২০২৩ সালে কমে ১৭.১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে একই সময়ে আয় বৈষম্যের সূচক (গিনি সহগ) ০.৪৮২ থেকে বেড়ে ০.৪৯৯ হয়েছে।
দারিদ্র্য হ্রাসের কারণ
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুল্লায়ে সেক বলেছেন, 'দারিদ্র্য হ্রাসের মূল কারণ হলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ।' তিনি আরও বলেন, 'তবে বৈষম্য মোকাবিলায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।'
বৈষম্যের চিত্র
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহরাঞ্চলে বৈষম্য বেশি। গ্রামীণ এলাকায় গিনি সহগ ০.৪৭৫ হলেও শহরে তা ০.৫২৩। এছাড়া ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে আয়ের ব্যবধান বেড়েছে। ধনী ১০ শতাংশ জনগোষ্ঠী মোট আয়ের ৩৮.২ শতাংশ ভোগ করে, যা ২০২২ সালে ছিল ৩৬.৮ শতাংশ।
সরকারের প্রতিক্রিয়া
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, 'সরকার বৈষম্য কমাতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। আমরা আশা করি আগামী বছরগুলিতে বৈষম্য কমবে।' তবে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈষম্য কমানোর জন্য কর ব্যবস্থার সংস্কার এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আরও সম্প্রসারণ প্রয়োজন।
আঞ্চলিক বৈষম্য
প্রতিবেদনে আঞ্চলিক বৈষম্যের চিত্রও উঠে এসেছে। সিলেট বিভাগে দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে কম (৮.৪%), অন্যদিকে বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে বেশি (২৮.৭%)। একইভাবে, শহরাঞ্চলে দারিদ্র্যের হার ১১.৩% হলেও গ্রামীণ এলাকায় ২০.৫%।
বিশ্বব্যাংকের এই প্রতিবেদন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ইতিবাচক দিক তুলে ধরলেও বৈষম্যের বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।



