ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রতারণা: ৩৫ লাখ টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রী উধাও, ৩০ নারী আর্থিক সংকটে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩৫ লাখ টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রী উধাও, ৩০ নারী বিপাকে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বড় আকারের প্রতারণা: ৩৫ লাখ টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রী উধাও

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের নূরপুর গ্রামে এক চাঞ্চল্যকর প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। জিয়াসমিন বেগম নামে এক নারী প্রায় দুই বছর ধরে স্থানীয় দরিদ্র ও স্বল্পশিক্ষিত নারীদের কাছ থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে স্বামীসহ লাপাত্তা হয়েছেন। গত রোববার গভীর রাতে তারা গোপনে এলাকা ত্যাগ করার পর থেকে তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

প্রতারণার কৌশল ও ভুক্তভোগীদের বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্য অনুযায়ী, জিয়াসমিন বেগম গ্রামের নারীদের কাছে নিজের ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর অজুহাত দেখিয়ে টাকা ধার নিতেন। তিনি তাদের বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে ঋণ তুলে টাকা দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করতেন এবং দৃঢ়ভাবে আশ্বাস দিতেন যে, ঋণের সমস্ত কিস্তি তিনি নিজেই পরিশোধ করবেন। তার কথায় বিশ্বাস করে অন্তত ৩০ জন নারী এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে অথবা নিজস্ব সঞ্চয় থেকে তাকে টাকা দিয়েছেন।

প্রাথমিকভাবে কয়েকটি কিস্তি পরিশোধ করায় তার প্রতি আস্থা আরও বৃদ্ধি পায়। ধীরে ধীরে তিনি এই কৌশলে প্রায় ৩০-৩৫ লাখ টাকা সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। তবে গত রোববার রাতে তারা অদৃশ্য হওয়ার পর থেকে জিয়াসমিন বেগমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে, যা তাদের পলায়নের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভুক্তভোগীদের চরম আর্থিক সংকট ও মানসিক দুশ্চিন্তা

এই ঘটনায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ঋণগ্রহীতা নারীরা। এনজিও সংস্থার প্রতিনিধিরা নিয়মিতভাবে কিস্তির টাকা আদায়ের জন্য চাপ দিচ্ছেন, ফলে তারা তীব্র আর্থিক সংকট ও মানসিক দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। প্রতারণার শিকার আঞ্জুয়ারা বেগম বলেন, "জিয়াসমিনের কথায় বিশ্বাস করে আমি এনজিও থেকে ঋণ তুলে কয়েক ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়েছি। এখন সে পালিয়ে গেছে, ঋণ শোধ করব কিভাবে বুঝতে পারছি না।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মোশারফ হোসেন নামে এক ব্যক্তি জানান, "আমার স্ত্রীকে দিয়ে জিয়াসমিন ১ লাখ টাকা ঋণ তুলেছে। কিছু কিস্তি দেওয়ার পর এখন পালিয়ে গেছে। এনজিওর লোকজন প্রতিদিন এসে চাপ দিচ্ছে, এতে আমরা চরম দুশ্চিন্তায় আছি।" আরেক ভুক্তভোগী রোকেয়া বেগম উল্লেখ করেন, তিনি নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং ঋণের মাধ্যমে আরও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন।

স্থানীয় সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য পদক্ষেপ

এই ঘটনা গ্রামের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ব্যাহত করেছে। স্থানীয়রা এখন জিয়াসমিন বেগম ও তার স্বামীর গ্রেপ্তার ও টাকা ফেরত পাওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা বা তদন্তের খবর পাওয়া যায়নি, তবে ভুক্তভোগীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

এনজিও ঋণের মাধ্যমে এই ধরনের প্রতারণা ক্রমবর্ধমান একটি সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে, যা দরিদ্র ও অশিক্ষিত নারীদের বিশেষভাবে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের ঘটনা রোধ করতে স্থানীয় জনগণের মধ্যে আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এনজিও সংস্থাগুলোর নিবিড় তদারকি অত্যন্ত জরুরি।