লক্ষ্মীপুরে নাছিমা বেগমের পরিবার: পলিথিনের ঘরে মানবেতর জীবনযাপন
আকাশে মেঘ জমলেই আতঙ্কে ভরে ওঠে নাছিমা বেগমের চোখ। বৃষ্টি নামলে সন্তানদের নিয়ে সারারাত ভিজে কাটাতে হয়, আর ঝড় এলে প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয় নিতে হয় ভাঙা এক কাঠের চৌকির নিচে। লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ৮নং চরকাদিরা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বোবাগো বাড়ির এক চিলতে পলিথিন মোড়ানো ঝুপড়ি এখন এই পাঁচ সদস্যের পরিবারের একমাত্র ঠিকানা।
সাজানো সংসার থেকে নিঃস্বতা
দুই বছর আগেও দিনমজুর মো. সোহেলের (৩০) সাজানো সংসার ছিল। ইটভাটায় শ্রম দিয়ে ভালোই চলছিল দিনকাল। কিন্তু সামান্য এক জ্বর ওলটপালট করে দিল সবকিছু। সেই জ্বর থেকে আজ সোহেল এক দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। এরই মধ্যে স্বামীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে বিক্রি করতে হয়েছে মাথা গোঁজার শেষ সম্বলটুকুও। এখন নিঃস্ব নাছিমা তিন সন্তান নিয়ে আকাশের নিচে পলিথিন মোড়ানো ঝুপড়িতে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।
সরেজমিনে হৃদয়বিদারক দৃশ্য
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। ঘর বলতে যা আছে, তার কোনো নিরাপত্তা নেই। কুকুর-বিড়াল অনায়াসেই ঘরের এক পাশ দিয়ে ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। অশ্রুভেজা চোখে নাছিমা বেগম বলেন, "ঘরে খাবার নেই, তার ওপর থাকার জায়গাটাও এমন যে রাতভর আতঙ্কে থাকি। একটু বৃষ্টি হলেই আমরা ভিজে যাই। আমার সন্তানদের জন্য অন্তত একটি নিরাপদ ঘর দরকার। আমার স্বামী বিনা চিকিৎসায় ধুঁকছে, আর আমরা এখানে না খেয়ে মরছি। আমি নিজেও অসুস্থ, অসুস্থতা নিয়ে খেত খামারে কাজ করে যে সামান্য পরিমাণ টাকা পাই তা দিয়ে সন্তানদের মুখে খাবার দিতেই কষ্ট হয়।"
সহযোগিতার আকুল আবেদন
এমতাবস্থায় তিনটি ছোট সন্তানের মুখে দুবেলা অন্ন তুলে দেওয়া আর অসুস্থ স্বামীর জীবন বাঁচাতে এখন সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের কাছে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন নাছিমা বেগম। একটি নিরাপদ ঘর এবং স্বামীর চিকিৎসার জন্য তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও দেশের দানশীল ব্যক্তিদের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
নাছিমার পরিবারের এই করুণ অবস্থা সমাজের দায়িত্বশীলদের মনোযোগ আকর্ষণ করছে। মানবিক সহায়তা ও জরুরি চিকিৎসা সেবা পেলে এই পরিবারটি আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।



