ঈদের আনন্দে বঞ্চিত সালথার আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা, নেই সামর্থ্য
ঈদে বঞ্চিত সালথার আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা

ঈদের আনন্দে বঞ্চিত সালথার আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা

পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে যখন সারা দেশে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে, তখন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বড় লক্ষণদিয়া আশ্রয়ন প্রকল্পে দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। অধিকাংশ পরিবারের ঘরে ঈদের কোনো প্রস্তুতি নেই, সামান্য কেনাকাটাও হয়নি। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে প্রকল্প এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর হতাশা আর অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

দারিদ্র্যের কষাঘাতে ঈদের প্রস্তুতি শূন্য

অনেক পরিবারই সেমাই, চিনি, দুধ কিংবা মাংস কেনার সামর্থ্য রাখেন না। শিশুদের অনেকেই জানে না, ঈদে তারা নতুন পোশাক পাবে কিনা। স্থানীয় ও আশ্রয়ণের বাসিন্দারা জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পের অনেক পরিবার নিয়মিত সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত। ফলে ঈদের মতো আনন্দের উৎসবও তাদের কাছে হয়ে উঠেছে বেদনার প্রতীক। ঈদ মানে যেখানে আনন্দ, ভাগাভাগি আর খুশির বার্তা, সেখানে এ মানুষগুলোর জীবনে ঈদ এসেছে নীরব, নিঃশব্দ আর বিষণ্ণ হয়ে।

বাসিন্দাদের করুন কাহিনী

আশ্রয়ণের বাসিন্দা কমেলা বেগম বলেন, "স্বামী-সন্তান হারিয়ে নাতনির আয়ে কষ্টে দিন চলছে। সরকারি সহায়তা নিয়মিত পান না।" একই অভিযোগ জানিয়ে জাহানারা বেগম বলেন, "তিন বছর ধরে এখানে থাকি। একটা মেয়ে বিয়ে দিয়েছি, ছেলে নেই। স্বামী অসুস্থ, কোনো কাজ করতে পারে না। আমি মানুষের কাছে হাত পেতে যা পাই, তা দিয়ে সংসার চালাই। সরকারি কোনো সাহায্য পাই না। ঈদ আসছে, কিন্তু ঘরে কিছুই নেই।"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আশ্রয়ণ প্রকল্পের আরও কয়েকজন বাসিন্দা— রাবিয়া বেগম, সাহেরা বেগম, জিয়াসমিন বেগম, চায়না বেগম, পাখি বেগম, আবে বেগম ও তাসলি বেগম— জানান, "আমরা শুধু একটা ঘর পেয়েছি, কিন্তু জীবিকা নেই। স্বামীরা ঠিকমতো আয় করতে পারে না। অনেক সময় আমাদের অন্যের বাড়িতে কাজ করতে যেতে হয়। ঈদ সামনে, কিন্তু এখনো বাজার করতে পারিনি। সন্তানদের জন্য নতুন জামা কিনতে না পারাই সবচেয়ে কষ্টের।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য

এ বিষয়ে গট্টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাভলু বলেন, "কিছু পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও চাল দেওয়া হয়েছে। তারপরও সামনে আবেদন করলে বয়স্ক ও বিধবা ভাতা করে দেওয়া হবে।" উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, "আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দাদের জন্য সরকার আলাদা কোনো সুবিধা নির্ধারণ করেনি। এমন যদি হতো সরকার সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে, আমি দেইনি তাহলে একটা কথা ছিল। সরকার বিভিন্ন ধরনের স্কিম প্রস্তুত করছে। সরকার যেভাবে বলে, আমরা সেভাবে কাজ করবো। সরকার হয়তো তাদের আওতায় আনবে, একটু সময় দিতে হবে। কেউ বাদ যাবে না।"

এই পরিস্থিতিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের ঈদ উদযাপন এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে। দারিদ্র্য ও সহায়তার অভাব তাদের জীবনে ঈদের আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছে, যা সমাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।