প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ফ্যামিলি কার্ড পেয়ে খুশি বস্তিবাসী নারীরা
প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ফ্যামিলি কার্ড পেয়ে খুশি নারীরা

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ফ্যামিলি কার্ড পেয়ে খুশি বস্তিবাসী নারীরা

রাজধানীর তিনটি বস্তি এলাকার ১৭ জন নারী গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে সরাসরি ফ্যামিলি কার্ড গ্রহণ করেছেন। এই কার্ডের মাধ্যমে তাঁরা সরকারের কাছ থেকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন, যা তাদের দৈনন্দিন সংসার ও সন্তানদের শিক্ষা খরচ মেটাতে সহায়ক হবে।

আকলিমা বেগমের আনন্দ ও প্রত্যাশা

মহাখালীর সাততলা বস্তির বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সী আকলিমা বেগম গৃহিণী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর স্বামী মোহাম্মদ খলিল দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন, যার কোনো স্থায়ী আয়ের উৎস নেই। এই দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে দুইজনকে বিয়ে দিয়েছেন এবং ৯ বছর বয়সী মেয়ে মার্জিয়াকে নিয়ে তাদের সংসার চলছে।

বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে কার্ড পাওয়ার পর আকলিমা বলেন, 'কার্ডটা পাইয়া আমার অনেক উপকার হইসে। সংসারের একটু সাহায্য হবে। বাচ্চার পড়াশোনার আর সংসারের খরচাও চালানো যাবে।'

তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'স্বপ্নেও ভাবি নাই যে কার্ড এইভাবে পাইমু। বাসায় সরকারি লোক আইসা, তথ্য নিয়া, বাসা দেইখা তারপর নাম নিছে।' এই কার্ডের জন্য কোনো টাকাপয়সা দিতে হয়নি বলেও জানান তিনি।

বাসনার সংগ্রাম ও নতুন ভরসা

কড়াইল বস্তির বাসিন্দা বাসনা গৃহিণী হিসেবে জীবনযাপন করছেন, তাঁর স্বামী বিল্লাল ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালান। এই দম্পতির এক ছেলে দশম শ্রেণিতে এবং এক মেয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। সংসার চালাতে কষ্ট হলেও সন্তানদের শিক্ষা থামাতে চান না বাসনা।

তিনি বলেন, 'অনেক খুশি হয়েছি। টাকাগুলো যদি মাসে মাসে পাই, তাহলে ছেলেমেয়ের পড়াশোনার পেছনে খরচ করব। খাতা-কলম, বই কিনে দেব। আর পরিবারের প্রয়োজনে কিছু খরচ করব।'

২০০৪ সালে নেত্রকোনা থেকে একাই ঢাকায় এসে তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেন বাসনা। নিজে কিছুটা স্বাবলম্বী হয়ে বিয়ে করার পর তিন বছর আগে চাকরি হারান। এখন তিনি ফ্যামিলি কার্ডকে তাঁর সংসারের 'নতুন ভরসা' হিসেবে দেখছেন।

সমলা ও হোসনা আক্তারের প্রতিক্রিয়া

কড়াইল বস্তির বউবাজারের বাক্‌প্রতিবন্ধী নারী সমলাও গতকাল ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন। তাঁর স্বামী মোহাম্মদ সাইফুল একটি বেসরকারি ব্যাংকে অফিস সহকারী হিসেবে কাজ করেন। সাইফুল বলেন, 'কার্ড থেকে পাওয়া কিছু টাকা জমিয়ে ছোট একটা ব্যবসা করার ইচ্ছা আছে।'

সাইফুল–সমলা দম্পতির দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। ১৫ বছর বয়সী ছেলে আসবাব তৈরির দোকানে কাজ শিখছে, বড় মেয়ে মাদ্রাসায় পড়ছে এবং ছোট মেয়ের এখনো স্কুলে যাওয়ার বয়স হয়নি।

মিরপুরের ভাষানটেক বস্তির বাসিন্দা হোসনা আক্তারও কার্ড পেয়ে দ্রুত বস্তিতে ফিরছিলেন। তিনি সংক্ষেপে বলেন, 'আমার সংসারের অনেক উপকার হবে।'

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির বিস্তারিত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া ১৭ জন নারী রাজধানীর তিনটি বস্তি এলাকার বাসিন্দা। এর মধ্যে বনানীর কড়াইল বস্তি থেকে ৪ জন, মিরপুরের ভাষানটেক বস্তি থেকে ৫ জন এবং মহাখালীর সাততলা বস্তি থেকে ৮ জন নারী রয়েছেন।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে, যা তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।