জুনের মধ্যে ৪০ হাজার পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড, প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন আগামীকাল
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল সকাল ১০টায় রাজধানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি মাঠে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। একই সময়ে দেশের আরও ১৪টি স্থানে একযোগে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।
কার্ড বিতরণের সময়সূচি
পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে মোট ৩ লাখ ২০ হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রথম ধাপে আগামী জুন মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ৪০ হাজার অভাবী পরিবারের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
- চলতি মাসে প্রথম পর্যায়ে ১০ হাজার সুবিধাভোগী পাবেন কার্ড
- দ্বিতীয় পর্যায়ে এপ্রিলে ১০ হাজার পরিবার পাবে
- মে মাসে আরও ১০ হাজার কার্ড বিতরণ করা হবে
- জুনে বাকি ১০ হাজার কার্ড দেওয়া হবে
কার্ডের সুবিধাসমূহ
ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় প্রত্যেক পরিবারকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। সরকারি কোষাগার থেকে এই অর্থ সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে।
এছাড়া বিদ্যমান টিসিবি কার্ডকে ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি হিসেবে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। একই স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করে ওটিপি যাচাইকরণের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্য সহায়তা নেওয়া যাবে। ভবিষ্যতে শিক্ষা উপবৃত্তি ও কৃষি ভর্তুকির মতো সুবিধাও এই কার্ডের মাধ্যমে দেওয়া হবে।
কে পাবেন কার্ড?
নীতিমালায় কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে সাত ব্যক্তি-শ্রেণির মানুষকে অগ্রাধিকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে:
- ভূমিহীন পরিবার
- গৃহহীন পরিবার
- প্রতিবন্ধী সদস্যের পরিবার
- হিজড়া সম্প্রদায়
- বেদে সম্প্রদায়
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবার
- দশমিক ৫ একর বা এর কম জমির মালিক
কে পাবেন না?
ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধার আওতার বাইরে থাকবেন ৬ শ্রেণির মানুষ:
- পরিবারের কেউ সরকারের পেনশনভোগী থাকলে
- বাড়িতে এসি ব্যবহারকারী পরিবার
- গাড়িসহ বিলাসবহুল সম্পদের মালিক হলে
- পরিবারের সদস্য সরকারি চাকরিজীবী হলে
- বাণিজ্যিক লাইসেন্স থাকলে
- বড় ব্যবসা থাকলে
নারীর ক্ষমতায়ন
নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে কার্ডটি পরিবারের মা বা নারী প্রধান সদস্যের নামে ইস্যু করা হবে। সরকারি কোষাগার থেকে সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা হবে, যা নারীর আর্থিক স্বাধীনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
পাইলট প্রকল্পের বাস্তবায়ন
সরকার জানিয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দিতে পরীক্ষামূলকভাবে এই উদ্যোগ চালু করা হচ্ছে। ঈদের আগেই সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তিনটি গ্রামে পাইলট প্রকল্পের অধীনে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া শুরু হয়েছে।
২০২৮ সালের মধ্যে দেশের সামাজিক নিরাপত্তা বাজেটকে জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করার একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা এই গাইডলাইনে নির্ধারণ করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সরকারের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।



