জাইমা রহমানের ফুলবাড়িয়া সফর: ক্ষুদ্র শিল্পের হতদরিদ্র নারীদের গল্প শুনলেন প্রধানমন্ত্রীকন্যা
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে জড়িত হতদরিদ্র নারীদের সুখ-দুঃখের গল্প সরাসরি শুনেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান। বুধবার (৪ মার্চ) সকাল পৌনে ১০টার দিকে তিনি ব্র্যাক আল্ট্রা-পুওর গ্রাজুয়েশন (ইউপিজি) অনুষ্ঠান পরিদর্শনে আসেন। এই সময় মাদুরে বসে হতদরিদ্র মানুষের জীবনযুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং সংগ্রামের কথা মনোযোগ সহকারে শুনেছেন প্রধানমন্ত্রীকন্যা।
ব্র্যাকের সুবিধাভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময়
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দেওখোলা ইউনিয়নের পশ্চিম কালীবাজাইল মোতালেব ড্রাইভারের বাড়িতে ব্র্যাকের সুবিধাভোগীদের সঙ্গে গভীর মতবিনিময় করেন জাইমা রহমান। বৈঠকে একজন প্রতিবন্ধীসহ পাঁচ সদস্য এবং ব্র্যাকের পরিকল্পনার বিস্তারিত বিবরণ শুনেছেন তিনি। এই আলোচনায় অংশগ্রহণকারী নারীদের আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার পথে চ্যালেঞ্জ এবং সাফল্যের গল্প উঠে এসেছে।
ব্র্যাকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতি
এ সময় ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ফজলে হাসান আবেদের মেয়ে এবং ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদসহ প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে জাইমা রহমান দারিদ্র্য বিমোচন এবং নারী ক্ষমতায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন। ব্র্যাকের এই উদ্যোগের মাধ্যমে কীভাবে হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে বিশেষ করে নারীদের সহায়তা করা হচ্ছে, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য বিনিময় হয়েছে।
আল্ট্রা-পুওর গ্রাজুয়েশন প্রোগ্রামের লক্ষ্য
ব্র্যাক আল্ট্রা-পুওর গ্রাজুয়েশন (ইউপিজি) প্রোগ্রামের আওতায় দেশের চরম দরিদ্র পরিবারগুলোকে, বিশেষ করে নারীদের, ২৪ মাসের একটি নিবিড় সহায়তার মাধ্যমে দারিদ্র্যসীমার উপরে নিয়ে আসতে কাজ করা হয়। এই প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য হলো অংশগ্রহণকারীদের আর্থিক স্বাধীনতা এবং সামাজিক মর্যাদা অর্জনে সহায়তা করা। জাইমা রহমান এই কর্মসূচি পরিদর্শন করেছেন মূলত সুবিধাবঞ্চিতদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে ওঠা নারীদের জীবনের গল্প সরাসরি উপলব্ধি করার জন্য।
অন্যান্য উপজেলা পরিদর্শন
এদিন জাইমা রহমান শুধু ফুলবাড়িয়া নয়, ত্রিশাল ও ভালুকা উপজেলার ব্র্যাকের কর্মসূচিও পরিদর্শন করেছেন। পরে তিনি গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। তার এই সফরটি দারিদ্র্য বিমোচন এবং নারী উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে। এই পরিদর্শনটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন এবং তাদের চাহিদা বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
