পদ্মা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণে পিপিপি উদ্যোগ: বিশাল প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়া চলছে
পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপি পদ্ধতিতে পদ্মা নদীতে একটি ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ইতোমধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে, যা দেশের জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রকল্পের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত বিবরণ
প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৯৭ দশমিক ২৫ কোটি টাকা, যা একটি বিশাল বিনিয়োগের প্রতিফলন। সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ মনোযোগ আকর্ষণীয় নোটিশের জবাবে এসব তথ্য জানান পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের নবম দিনে এ সংক্রান্ত নোটিশটি উত্থাপন করেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
প্রকল্পের সুফল ও ভৌগোলিক প্রভাব
জবাবে মন্ত্রী বলেন, “পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটির মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ১৯টি জেলার ১২০টি উপজেলা সরাসরিভাবে উপকৃত হবে। এর বাইরে আমরা যে সমীক্ষা করেছি, সরাসরি ১৯টি জেলার পর আরও পাঁচটি জেলা বাহ্যিকভাবে এর উপকার লাভ করবে। যে কারণে এই প্রকল্পকে আমরা একটা মাস্টারমাইন্ড প্রকল্প বলছি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটিকে পদ্মা নদীর পানি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জীবন-জীবিকা কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ এবং মানুষের টিকে থাকার জন্য অন্যতম ভিত্তি। সেই ভিত্তির কেন্দ্রেই রয়েছে পদ্মা নদী।”
ইতিহাস ও বর্তমান অগ্রগতি
পদ্মা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণের সম্ভাব্য সমীক্ষা ২০০৪ সালে শুরু হয়েছিল এবং এই সমীক্ষা শেষ হয় ২০১৩ সালে। সমীক্ষায় ব্যারেজ নির্মাণের জন্য সুপারিশ করা হয়। বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে প্রকল্পের পিপিপি প্রণয়নপূর্বক অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৬ থেকে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত।
প্রত্যাশিত ফলাফল ও অর্থনৈতিক সুবিধা
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ২৮ দশমিক ৮০ লাখ হেক্টর জমির সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে বলে জানান মন্ত্রী এ্যানি। তিনি বলেন, “সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। সেই সঙ্গে প্রায় ৯ লাখ ২৭ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।” এই উদ্যোগটি কৃষি, শিল্প ও পরিবেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারের এই পদক্ষেপটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্থায়ী সুফল বয়ে আনবে।



