ভারত ও চীনের বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের চিন্তা, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার বৈঠকে আলোচনা
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আজ সোমবার সচিবালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা এবং চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন। বৈঠকে শিল্প খাতে ভারত ও চীনের বিনিয়োগ বাড়ানোর চিন্তা করছে সরকার বলে জানিয়েছেন তিনি।
বিনিয়োগ বাড়ানো সরকারের অগ্রাধিকার
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি একটা ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় রেখে পতিত সরকার পালিয়ে গেছে। আমাদের অর্থনীতিতে নতুন প্রাণশক্তি দেওয়া দরকার এবং সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ইশতেহার অনুযায়ী আমাদের বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।’ তিনি ব্যাখ্যা করেন, বিনিয়োগ বাড়লে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, যা কর্মসংস্থান ও রাজস্ব আহরণ বাড়াবে, ফলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ সম্ভব হবে।
ভারত ও চীনের প্রকল্প পর্যালোচনা
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, বৈঠকে ভারত ও চীনের চলমান প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রে লাইন অব ক্রেডিটের আসল পরিস্থিতি, অর্জন ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়নের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রকল্পগুলোকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার উপায় খুঁজে বের করা হচ্ছে।’
দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘ভুটান, নেপালসহ এই চার দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে উন্নয়নের সম্পর্ক কীভাবে বাড়ানো যায়, সেটা নতুনভাবে বিবেচনা করছি।’ জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গে তিনি অতীত সরকারের অসম চুক্তির কথা উল্লেখ করেন এবং ভারতের আধার কার্ডের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সম্ভাবনা দেখেন।
চীনের সঙ্গে বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন
চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বাংলাদেশ সফরে আলোচিত ২০ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। তিতুমীর বলেন, ‘শুধু ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের মতো প্রকল্প নিয়ে কাজ হয়েছে। প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নির্ধারণে আলোচনা হয়েছে।’ তিনি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ সরকার, চীনা সরকার ও রাষ্ট্র মালিকানাধীন সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের প্রস্তাব দেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ঋণের সংস্কৃতি থেকে বিনিয়োগের সংস্কৃতিতে যাওয়া দরকার।’ তিনি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন। বৈঠকে ভারত ও চীনের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
