বাণিজ্যমন্ত্রী-ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক: দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সহজীকরণে আলোচনা
বাণিজ্যমন্ত্রী-ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক: বাণিজ্য সহজীকরণ

বাণিজ্যমন্ত্রী-ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক: দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে আলোচনা

আজ সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ও বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে ১১ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রয়েছে, তবে গত দেড় বছরে কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছিল।

বাণিজ্যিক সম্পর্ক সহজীকরণের উদ্যোগ

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির উল্লেখ করেন, ভারতীয় হাইকমিশনারের কাছে এই প্রতিবন্ধকতাগুলো সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে এবং কীভাবে আগামী দিনে এই বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও সহজ ও উন্নত করা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, "দুই দেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্কে যে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে ওঠার সময় এসেছে।"

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান এবং অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান। ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা সাংবাদিকদের বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গভীর বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে এবং নতুন সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে এই সম্পর্ক সম্প্রসারণে ভারত আগ্রহী।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভিসা কার্যক্রম ও বর্ডার হাট পুনরায় চালু

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ভারতীয় হাইকমিশনার মূলত নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানাতে এসেছিলেন। এ সময় দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে বন্ধ থাকা বর্ডার হাট ও বেশ কিছু স্থলবন্দর পুনরায় চালু করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, "ভিসা কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করা হবে, যা গত দেড় বছর ধরে সীমিত ছিল।"

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ভারত কঠোর নীতি গ্রহণ করে ভিসা দেওয়ার কাজ সীমিত করেছিল, বিশেষ করে পর্যটক ভিসা দেওয়া বন্ধ করা হয়েছিল। এখন এই প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও এলডিসি উত্তরণ

বৈঠকে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) উত্তরণ পেছানোর প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের জোগান নিশ্চিত করা—সব ক্ষেত্রেই পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, "এলডিসি উত্তরণ পেছানোর বিষয়ে যে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, সেটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ভারত এই প্রক্রিয়ায় সহযোগিতামূলক অবস্থানে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।"

ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, "নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে ইতিবাচকভাবে কাজ করে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার আমাদের আগ্রহের কথা জানিয়েছি।" তিনি আরও যোগ করেন, ভৌগোলিক নৈকট্যকে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগে রূপান্তর করা সম্ভব এবং একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে অনেক কিছু অর্জন করা যাবে।

সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি ও অন্যান্য বিষয়

সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (সিইপিএ) নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে প্রণয় ভার্মা বলেন, "না, এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট আলোচনা হয়নি। তবে অবশ্যই এসব বিষয় আমাদের ব্যবসা ও অর্থনৈতিক আলোচনার অংশ। ব্যবসা সম্প্রসারণে স্থলবন্দরও গুরুত্বপূর্ণ।"

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনার প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, "হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ববাণিজ্যে তার প্রভাব পড়বে, যা আমাদের ওপরও আসতে পারে। তবে আশার কথা হলো, দেশে বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত ও জোগান রয়েছে।"

এই বৈঠক দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।