চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল চুক্তি নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল নিয়ে দেশি-বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে টার্মিনাল সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আশিক চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ
আশিক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় স্বার্থের পক্ষেই সিদ্ধান্ত নিতে বলেছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, এই বিষয়টি অন্তর্বর্তী সরকারের চুক্তির পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার মতো নয়। বরং, যদি জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে চুক্তি করা সম্ভব হয়, শুধু সেই ক্ষেত্রেই সরকার চুক্তি করবে। এই অবস্থান আগের সরকারের সময়েও বলা হয়েছিল এবং বর্তমান সরকারও একই নীতি অনুসরণ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
টার্মিনালের পটভূমি ও বিনিয়োগ
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। আওয়ামী লীগের শাসনামলে এই টার্মিনাল সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং গত অন্তর্বর্তী সরকার সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়েছে। তবে, এই প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে, যা এখনো মুলতুবি রয়েছে।
২০০৭ সালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এই টার্মিনাল নির্মাণ করে। টার্মিনালটি নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি সংযোজনে বন্দর কর্তৃপক্ষ ধাপে ধাপে মোট ২ হাজার ৭১২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। বর্তমানে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করছে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাই ডক লিমিটেড। বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার আগপর্যন্ত চিটাগং ড্রাই ডক লিমিটেডের এই টার্মিনাল পরিচালনা করার কথা রয়েছে, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনাগত দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ
এই টার্মিনাল চুক্তি নিয়ে চলমান আলোচনা এবং হাইকোর্টের রিট মামলা দেশের অর্থনৈতিক ও বন্দর উন্নয়নের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। আশিক চৌধুরীর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, সরকার জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় টার্মিনালের পরিচালনা, বিনিয়োগের রিটার্ন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা নিয়ে আরও বিশদ আলোচনা প্রয়োজন হতে পারে।
