ঢাকার সঙ্গে রেলপথে যুক্ত হচ্ছে মানিকগঞ্জ, নীতিগত সিদ্ধান্ত
ঢাকার সঙ্গে রেলপথে যুক্ত হচ্ছে মানিকগঞ্জ

দীর্ঘদিনের দাবি ও অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জ পর্যন্ত কমিউটার ট্রেন চালুর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে রেলমন্ত্রী বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের জানান।

মন্ত্রীর উদ্যোগে গুরুত্ব

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার উদ্যোগে বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে গুরুত্ব পায়। ইতোমধ্যে রেল মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে বলে জানা গেছে।

খবরটি প্রকাশের পর জেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ এটিকে মানিকগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আঞ্চলিক যোগাযোগে সুফল

তাদের মতে, রেল সংযোগ বাস্তবায়িত হলে শুধু মানিকগঞ্জ নয়; রাজবাড়ী, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া ও পাবনাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২ এপ্রিল বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে এ বিষয়ে একটি আধা-সরকারি (ডিও) পত্র দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা-মানিকগঞ্জ কমিউটার ট্রেন চালুর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

মানিকগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি

মানিকগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল জেলার সঙ্গে সরাসরি রেল সংযোগ স্থাপন। রাজধানীর খুব কাছাকাছি অবস্থান করলেও এখন পর্যন্ত দেশের রেল নেটওয়ার্কের বাইরে রয়েছে জেলা। ফলে প্রতিদিন হাজারো মানুষকে সড়কপথে তীব্র যানজট ও ভোগান্তি সহ্য করে ঢাকায় যাতায়াত করতে হয়।

স্থানীয়দের মতে, কমিউটার ট্রেন চালু হলে সকালে মানিকগঞ্জ থেকে ঢাকায় গিয়ে অফিস, ব্যবসা কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাজ শেষ করে একই দিনে ফিরে আসা সম্ভব হবে। এতে রাজধানীতে স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রয়োজন কমবে এবং ঢাকার ওপর জনসংখ্যার চাপও কিছুটা হ্রাস পাবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি

মানিকগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবদুস সালাম বাদল বলেন, রেলপথ চালু হলে জেলার কৃষিপণ্য, দুগ্ধজাত পণ্য ও ক্ষুদ্র শিল্পের উৎপাদিত সামগ্রী দ্রুত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবহণ করা যাবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে।

ক্যাব মানিকগঞ্জের সভাপতি এবিএম সামছুন্নবী তুলিপ বলেন, রেললাইন বাস্তবায়িত হলে জেলার অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বহু বছরের দাবি পূরণের পথে এগোচ্ছে।

স্থানীয় নেতাদের প্রতিক্রিয়া

সুজন মানিকগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস বলেন, রেললাইন সংযোগ ও কমিউটার ট্রেন চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এটি হবে মানিকগঞ্জের মানুষের বহু বছরের প্রত্যাশা পূরণের মাইলফলক। একই সঙ্গে আঞ্চলিক অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।

এ ব্যাপারে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা যুগান্তরকে বলেন, মানিকগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল রেল সংযোগ। জনগণের সেই দাবি এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নজরে আনা হয়েছে। নীতিগত সিদ্ধান্ত হওয়ায় আমি আশাবাদী, দ্রুত পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও রেলমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার দেশের সুষম উন্নয়নে আন্তরিক। রেল সংযোগ বাস্তবায়িত হলে এটি শুধু মানিকগঞ্জ নয়; সমগ্র মধ্যাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন প্রয়োজন দ্রুত সম্ভাব্যতা যাচাই, রুট নির্ধারণ এবং প্রকল্প প্রণয়নের কাজ শুরু করা। তাদের অভিমত, ঢাকা-মানিকগঞ্জ রেলপথ চালু হলে তা ভবিষ্যতে রাজবাড়ী, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া ও পাবনার সঙ্গে রাজধানীর আরও কার্যকর যোগাযোগের ভিত্তি তৈরি করবে এবং দেশের আঞ্চলিক অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।

দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এখন বাস্তবতার পথে। মানিকগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা, কাগজে-কলমের সিদ্ধান্ত দ্রুতই রূপ নেবে রেললাইনের ইস্পাত বন্ধনে।