হাতবাক্স সিইওর মতে বাজেট ব্যবসাবান্ধব, উদ্যোক্তারা উজ্জীবিত
হাতবাক্স সিইওর মতে বাজেট ব্যবসাবান্ধব, উদ্যোক্তারা উজ্জীবিত

শাফাত কাদির, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), হাতবাক্স। তিনি বলেছেন, আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব হয়েছে। দেশে গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে ব্যবসা–বাণিজ্যে মন্দাভাব চলছে। নতুন বিনিয়োগ হচ্ছিল না। বাজেটে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাতে ব্যবসা–বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জট খুলবে বলে মনে হচ্ছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে লক্ষ্য

অর্থমন্ত্রী নতুন অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। এই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করলে কাছাকাছি হয়তো পৌঁছানো যাবে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষ বর্তমানে নিত্যপণ্য কিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন। মূল্যস্ফীতি কমলে নিত্যপণ্য ছাড়া অন্যান্য পণ্যসামগ্রীর বিক্রিও বাড়বে। এতে সামগ্রিক অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে।

প্রণোদনা প্যাকেজ ও পুনঃঅর্থায়ন

বাজেটের আগে দেশের ব্যবসা–বাণিজ্যে গতি ফেরাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। তার মধ্যে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে। এই প্যাকেজের বাইরে ২ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন ঋণ কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বাজেটে। এগুলো খুবই চমৎকার উদ্যোগ। আমরা ছোট উদ্যোক্তারা অনেক দিন ধরেই এমন তহবিল চাই। কারণ, অনেক দিন ধরেই সুদের হার বেশি হওয়ায় ব্যবসার চলতি মূলধনের জন্যও ব্যাংকমুখী হওয়ার সাহস পাইনি। এখন প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে কম সুদে ঋণ পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় আমরা ভরসা পাচ্ছি। এই ঋণ যাতে সহজে প্রক্রিয়া করা হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা উপকৃত হবেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সৃজনশীল অর্থনীতি ও স্টার্টআপ

সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য একটি চমৎকার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আমরা যেহেতু দেশের শিল্প ও ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করি, সে জন্য আমরা উজ্জীবিত। যাঁরা এই খাতে আগে থেকে কাজ করছেন, তাঁরা যেন উদ্যোগটির সুফল পান, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাজেটে তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিতে বিভিন্ন সুযোগ–সুবিধা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তার মধ্যে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ক্ষেত্রে আগামী ৯ বছরের জন্য মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট থেকে অব্যাহতি পেয়েছে। স্টার্টআপ, উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার ক্ষেত্রে টার্নওভার কর শূন্য শতাংশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা করেছে সরকার। এতে তরুণ উদ্যোক্তারা উৎসাহ পাবেন। এতে অর্থনীতি বেগবান হবে।

ভ্যাট বাধ্যবাধকতা নিয়ে উদ্বেগ

নতুন ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএন দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে অবশ্য ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব খুলতে অনেকেই নিরুৎসাহিত হবেন। ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে নগদ টাকা রাখায় উৎসাহিত হবেন। আবার নতুন উদ্যোক্তাদের ব্যাংক হিসাব খুলতে গেলেও ভ্যাট নিবন্ধন নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ভ্যাট–ট্যাক্স নিয়ে নতুন উদ্যোক্তাদের মধ্যে ভীতি রয়েছে। হয়তো কিছু উদ্যোক্তা ভয়ে পিছিয়ে যাবেন। তাই এটি নতুন উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগে অন্তরায় হতে পারে। ফলে ব্যাংক হিসাব খুলতে ভ্যাট নিবন্ধন থাকার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া উচিত।

বাজেট ঘাটতি ও রাজস্ব চ্যালেঞ্জ

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে ঘাটতি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বড় এই ঘাটতি পূরণে সরকার ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নেবে। সেটি করলে ক্ষুদ্র, মাঝারিসহ বড় শিল্প খাতের ঋণ পাওয়া কঠিন হবে। ঋণের সুদহারও হয়তো কমবে না। সে জন্য রাজস্ব আদায় বাড়াতে সরকারের করের আওতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া উচিত। তা ছাড়া আগামী অর্থবছরে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার। এই বিপুল রাজস্ব আদায় করাটা খুবই কঠিন। ফলে বাজেট বাস্তবায়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। তবে সেটি করা গেলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অবশ্যই গতি আসবে।