টানা তৃতীয় দিনের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে কমেছে সোনার দাম। টানা এ পতনে এখন আউন্স প্রতি চার হাজার ডলারের নিচে অবস্থান করছে মূল্যবান ধাতুটির দাম। মার্কিন ডলারের অভূতপূর্ব উত্থান ও ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক সুদের হার বৃদ্ধির জোরালো পূর্বাভাসের জেরে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমে গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে এসেছে।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দর নিম্নমুখী
বুধবার স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স (৩১.১০৩ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৮৮.৯৭ ডলারে নেমে আসে, যা ১১ জুনের পর সর্বনিম্ন। একই সময়ে আগস্টে সরবরাহযোগ্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ১.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১০০.৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত থাকলে এবং স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ডলারের গুরুত্বপূর্ণ স্তরের নিচে নেমে যায়, তাহলে তা দ্রুত ৩ হাজার ৮০০ ডলার এমনকি ৩ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত নামতে পারে। এতে সাম্প্রতিক সময়ে স্বর্ণের বাজারে দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি অনেকটাই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে।
দেশীয় বাজারেও বড় দরপতন
আন্তর্জাতিক বাজারে খাঁটি স্বর্ণের দাম কমার প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন মূল্যহার ঘোষণা করেছে, যা কার্যকর হওয়ার পর ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকায় নেমে এসেছে। মাত্র দুই দিন আগেও এর দাম ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা।
একইভাবে ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪৯০ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি সব ধরনের রুপার দামও কমিয়েছে বাজুস। নতুন দরে ২২ ক্যারেট রুপা প্রতি ভরি ৪ হাজার ৮৪১ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪ হাজার ৬০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ২ হাজার ৯৭৪ টাকায় বিক্রি হবে।
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত ৮০ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ বার দাম বেড়েছে এবং ৪০ বার কমেছে।
কেন কমছে স্বর্ণের দাম?
ডলারের শক্তিশালী অবস্থান: আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের সূচক এক বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে, যা চাহিদা কমিয়ে দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
সুদের হার বাড়ার আশঙ্কা: মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ চলতি বছরে আরও কয়েক দফা সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীরা ডলার ও সরকারি বন্ডের দিকে ঝুঁকছেন। সুদবিহীন সম্পদ হওয়ায় স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ তুলনামূলক কমছে।
মার্কিন-ইরান সংলাপের ইতিবাচক প্রভাব: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়া এবং মার্কিন-ইরান আলোচনায় অগ্রগতির ফলে বৈশ্বিক বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের অতিরিক্ত চাহিদাও কমে গেছে।



