চট্টগ্রামের হালিশহরের রানী রাসমণি ঘাটে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে বুধবার সকালে সড়কের ওপর মাছ ছিটিয়ে বিক্ষোভ করেছেন জেলেরা। স্থানীয় আড়তদার ও জেলেরা এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
চাঁদাবাজির অভিযোগ ও বিক্ষোভের ঘটনা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শতাধিক জেলে ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে বিক্ষোভ করেন এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন। একপর্যায়ে তারা সড়কে মাছ ছিটিয়ে এবং বরফ ও গ্যাস সিলিন্ডার রেখে বিক্ষোভ করেন। এতে কিছু সময় সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দলের পরিচয়ে একটি গ্রুপ গত ২৩ এপ্রিল থেকে সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আদায়ের নামে রাসমনি ঘাট এলাকায় চাঁদাবাজি করছে। প্রতি টুকরো বরফে ৫ টাকা, প্রতি কেজি মাছে ৫ টাকা ও প্রতি গ্যাস সিলিন্ডারের জন্য ১০০ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় তারা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নামেন।
জেলেদের দাবি ও প্ল্যাকার্ড
বিক্ষোভের সময় জেলেদের হাতে বিভিন্ন দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। রানী রাসমনি ঘাটের জেলে, ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশ নেওয়া জেলেরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ঘাটে মাছ নামানো, নৌকা ভেড়ানো, জাল, রশি, বরফ, গ্যাস সিলিন্ডার ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসার ক্ষেত্রে খাস খালেকশনের নামে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।
মাছ ব্যবসায়ী রাজিব জলদাস বলেন, ‘আমরা বৈধভাবে ব্যবসা করছি। তারপরও পথে পথে চাঁদা দিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছি।’
একাধিক জেলে অভিযোগ করেন, নৌকার মাঝি, ঘাটে কর্মরত শ্রমিক, মাছ ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীর ক্ষুদ্র বিক্রেতারাও একই ধরনের চাঁদা আদায়ের শিকার হচ্ছেন। তারা অবিলম্বে চাঁদাবাজি কার্যক্রম বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ
অবরোধের খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তাদের আশ্বাসের পর বিক্ষোভকারীরা সড়ক ছেড়ে গেলে রানী রাসমনি ঘাট এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
রানী রাসমনি ইলিশ ঘাটের সভাপতি মো. হাসান আলী চৌধুরী বলেন, ‘এই ঘাটের আশপাশে আরও ঘাট আছে। সেখানে কোথাও খাস কালেকশন নেই। শুধু এখানে খাস কালেকশনের নামে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। অবৈধ খাস কালেকশন ও চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’



