শেয়ার দরপতনে ট্রিলিয়নিয়ার তালিকা থেকে ছিটকে গেলেন ইলন মাস্ক
শেয়ার দরপতনে ট্রিলিয়নিয়ার তালিকা থেকে ছিটকে গেলেন মাস্ক

শেয়ার দরপতনে ট্রিলিয়নিয়ার তালিকা থেকে ছিটকে গেলেন ইলন মাস্ক

টেসলা ও স্পেসএক্সের শেয়ারের ব্যাপক দরপতনের কারণে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যবসায়ী ইলন মাস্ক আর ট্রিলিয়নিয়ার (এক লাখ কোটি ডলারের মালিক) হিসেবে থাকছেন না। গতকাল বুধবার মার্কিন শেয়ারবাজার বন্ধ হওয়ার সময় মাস্কের সম্পদের পরিমাণ কমে বিলিয়নিয়ারের (শতকোটি ডলারের মালিক) স্তরে নেমে এসেছে।

ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী মাস্কের বর্তমান সম্পদ

বাণিজ্যবিষয়ক সাময়িকী ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় (ইস্টার্ন টাইম) বিকেল চারটা পর্যন্ত মাস্কের নিট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৯৭০ দশমিক ২ বিলিয়ন (৯৭ হাজার ২০ কোটি ডলার) ডলার। ইতিহাসের বৃহত্তম আইপিওর মাধ্যমে স্পেসএক্স এক ধাক্কায় মাস্কের সম্পদকে আকাশচুম্বী করে দিয়েছিল। তবে একই সঙ্গে তাঁর সম্পদ কোম্পানির শেয়ারের দামের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। রেকর্ড গড়া এ আইপিও থেকে স্পেসএক্স ৭৫ বিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছিল।

ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার ইতিহাস

১২ জুন মহাকাশযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের ঐতিহাসিক প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর মাধ্যমে মাস্ক ট্রিলিয়নিয়ার তালিকায় নাম লেখান। রকেট, স্যাটেলাইট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির এ কোম্পানির শেয়ার পুঁজিবাজারে আসার পর মাস্ক বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ কোটি ডলারের বেশি সম্পদের মালিক হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। আইপিওর পরবর্তী দিন ও সপ্তাহগুলোতে মাস্কের সম্পদের পরিমাণ এ বিশাল অঙ্কের আশপাশেই ছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শেয়ারবাজারে ধসের প্রভাব

তবে চলতি সপ্তাহে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস নামে। ফলে বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানির শেয়ারের মূল্যে বড় পতন ঘটে, যার সরাসরি ধাক্কা লাগে মাস্কের সম্পদে। মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে—বিনিয়োগকারীদের এমন আশঙ্কা এবং এআই খাতের সম্ভাব্য ‘বাবল’ তৈরি হওয়ার ভয় (বাজারে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত উন্মাদনা বা ধসের আশঙ্কা) পুঁজিবাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। বিশেষ করে যেসব কোম্পানির বাজারমূল্য এআই প্রযুক্তির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল, সেগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট এবং চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যামসাংয়ের মতো বড় বড় নাম রয়েছে।

স্পেসএক্সের শেয়ার দরপতন

বাজারে আসার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ১৩৫ ডলারের প্রাথমিক ভিত্তিমূল্য থেকে ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। তবে গতকাল স্পেসএক্সের প্রতিটি শেয়ারের দাম ১৫৪ দশমিক ৩৫ ডলারে তালিকাভুক্ত হয়। মাস্কের সম্পদের বেশির ভাগ অংশই বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের ওপর নির্ভরশীল, যা নগদ অর্থ নয় এবং তিনি চাইলেই তা দ্রুত খরচ করতে পারবেন না। তা সত্ত্বেও তাঁর এ বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন এবং এর বৃদ্ধির গতি ইতিহাসে নজিরবিহীন।

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে অবস্থান

ট্রিলিয়নিয়ার পদবি হারালেও ইলন মাস্ক এখনো বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, তাঁর পরবর্তী অবস্থানে থাকা গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের নিট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৮৪ বিলিয়ন ডলার। শেয়ারবাজারের এ ওঠানামার কারণে এটা অসম্ভব নয় যে টেসলা বা স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম আবার বাড়লে মাস্ক খুব দ্রুতই তাঁর ট্রিলিয়নিয়ার মর্যাদা ফিরে পাবেন। মাস্ক শুধু এ বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত তাঁর সম্পদে ৩৩৮ বিলিয়ন ডলার যোগ করেছেন। অর্থাৎ ল্যারি পেজের মোট যে সম্পদ, মাস্ক এই এক বছরেই তার চেয়ে বেশি আয় করেছেন।